সরকারের কাছে বেসরকারি সার আমদানিকারকদের পাওনা ৪ হাজার কোটি টাকা

নন-ইউরিয়া সার আমদানিতে নীতিমালা সংশোধনের দাবি বিএফএর

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্ববাজারে ফসফেট সারের সঙ্কট, কাঁচামাল সালফারের ঘাটতি এবং আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সরকারের ভর্তুকির আওতায় বেসরকারি পর্যায়ে নন-ইউরিয়া সার আমদানিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আমদানিকারকদের বকেয়া পরিশোধ ও ভর্তুকি ব্যবস্থার কিছু ধারা সংশোধনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ)। সংগঠনটি বলছে, বর্তমান আর্থিক ও নীতিগত জটিলতা অব্যাহত থাকলে আগামী অর্থবছরে এ খাতে বেসরকারি অংশগ্রহণ ব্যাহত হতে পারে।

গত ৯ আগস্ট কৃষিমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে বিএফএ চেয়ারম্যান মো: মোশাররফ হোসেন এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন। এতে বলা হয়, ২০০৪-০৫ অর্থবছর থেকে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সার আমদানি চালু থাকলেও সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিশেষ করে যুদ্ধ, সালফারের ঘাটতি এবং চীনের রফতানি বন্ধের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা চাপের মুখে পড়েছে। পাশাপাশি ভারতও চাহিদা অনুযায়ী সার সংগ্রহে সমস্যায় রয়েছে।

সংগঠনটির হিসাবে, বেসরকারি আমদানিকারকদের সরকারের কাছে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। যার বিপরীতে বিল পরিশোধে বিলম্বের কারণে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা সুদ জমেছে। নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে প্রায় এক বছর দেরিতে অর্থ পরিশোধ হওয়ায় এ জটিলতা তৈরি হয়েছে।

বিএফএ চার দফা প্রস্তাবে বলেছে, সার সরবরাহের মূল্য নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ করতে হবে এবং বিলম্ব হলে সুদ প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি সংস্থা বিসিআইসি ও বিএডিসির মতো একই নিয়ম বেসরকারি আমদানিকারকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্যের দাবি জানানো হয়েছে। চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, এলসি খোলার সময়ের বিনিময় হার অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ হলেও পরিশোধের সময়ের হার ভিন্ন হওয়ায় আমদানিকারকরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এ কারণে পরিশোধের দিন সোনালী ব্যাংকের বিসি সেলিং রেট অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এক শতাংশ টার্নওভার কর নিয়েও আপত্তি জানানো হয়েছে। বিএফএর মতে, সরকার নির্ধারিত তিন শতাংশ লভ্যাংশের মধ্যে এ কর আরোপ হলে প্রকৃত মুনাফা আরো কমে যায়। তাই কর প্রত্যাহার অথবা লভ্যাংশ তিন শতাংশ থেকে চার শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন খরচ বাড়ায় স্থানীয় ব্যয় এক হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে দুই হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে। আয়কর বিধিমালার বিভিন্ন ধারা উল্লেখ করে উৎসে কর, ডেফার্ড পেমেন্ট সুদ, এলসি কনফারমেশন খরচের ওপর কর ও ভ্যাট প্রত্যাহারের অনুরোধও করা হয়েছে।

বিএফএ দ্রুত সভা আহ্বান করে এসব নীতিগত বিষয় সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য নন-ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব দ্রুত চূড়ান্ত করার অনুরোধ করেছে। সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, সমস্যাগুলোর সমাধান না হলে আগামী অর্থবছরে বেসরকারি আমদানিকারকদের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে, যা দেশে সার সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করতে পারে।