‘অতি রক্ষণাত্মক কৌশলই ডুবিয়েছে ইংল্যান্ডকে’

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিশ্বকাপের ২৩তম আসরের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ম্যাচ। ইউরোপের দেশ ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ ল্যাটিন অঞ্চলের দেশ আর্জেন্টিনা। এক দিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আলবিসেলেস্তেরা। অন্য দিকে ১৯৬৬ আসরের শিরোপা জয়ী দল থ্রি লায়ন্সরা। বাংলাদেশ সময় গত পরশু রাতে ১টায় শুরু হওয়া ম্যাচে প্রথমার্ধটা মাঠের ফুটবলের চেয়ে বেশি দেখা গেল শারীরিক শক্তি প্রদর্শন। দ্বিতীয়ার্ধে গোল করে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। এক গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর অতি রক্ষণাত্মক কৌশলের কারণে শেষ পর্যন্ত জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও লিওনেল মেসিদের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে হ্যারি কেনদের। ম্যাচ শেষে ইংলিশ অধিনায়ক স্বীকার করেছেন, এগিয়ে যাওয়ার পর অতিরিক্ত রণাত্মক হয়ে পড়াই তাদের পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ। তার মতে, আক্রমণাত্মক ফুটবল চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে লিড ধরে রাখার চেষ্টা শেষ পর্যন্ত দলের জন্য ‘কাল’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আটালান্টায় ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে ম্যাচের ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। সেই সময় মনে হচ্ছিল দীর্ঘ দিনের অপোর অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেবে টমাস টুখেলের দল। কিন্তু গোল করার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার বদলে ধীরে ধীরে নিজেদের অর্ধে সরে এসে রক্ষণাত্মক পন্থা অবলম্বন করে ইংলিশরা। এর সুযোগ কাজে লাগিয়ে আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায় আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের ৮৫ মিনিটে লিওনেল মেসির অ্যাসিস্টে আর্জেন্টিনাকে ১-১-এ সমতায় ফেরান এনজো ফার্নান্দেজ। ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা ৯ মিনিটের দ্বিতীয় মিনিটে আবারো মেসির ক্রসে দুর্দান্ত হেডে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেন লাউতারো মার্টিনেজ। ম্যাচের শেষ ৩৭ মিনিট বল দখল ও আক্রমণে অনেক পিছিয়ে পড়ে ইংল্যান্ড। এ সময়টায় প্রতিপরে চাপে রীতিমতো দিশেহারা ছিল ইংলিশদের রক্ষণভাগ।

অতি রক্ষণাত্মক কৌশলের কারণে পরাজয়ের পর ম্যাচ শেষে সেই হতাশায় ফুটে ওঠে অধিনায়ক হ্যারি কেনের কণ্ঠেও। কেন বলেন, ‘আমরা ম্যাচটা জয়ের খুব কাছাকাছি ছিলাম। কিন্তু এই পর্যায়ে শুধু লিড ধরে রাখার চেষ্টা যথেষ্ট নয়। আমরা আরেকটি গোলের জন্য চাপ সৃষ্টি করার বদলে রণে মনোযোগ দিয়েছি। শেষ পর্যন্ত সেটাই আমাদের মূল্য দিতে হয়েছে।’

তিনি যোগ করেন, ‘পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে কঠোর পরিশ্রম এবং প্রতিটি খেলোয়াড় সর্বোচ্চটা দেয়ার চেষ্টা করেছে। তবে সেমিফাইনালের মতো বড় ম্যাচে কয়েক মিনিটের ভুলই সবকিছু বদলে দিয়েছে। এমন হার মেনে নেয়া খুব কঠিন। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং সমর্থকÑ সবার জন্যই এটি অত্যন্ত কষ্টের মুহূর্ত।’

তবে হতাশার মধ্যেও ইতিবাচক দিক খুঁজছেন কেন। তিনি মনে করেন, এই দলটির সামর্থ্য রয়েছে ভবিষ্যতে আরো শক্তিশালী হয়ে ফেরার। তার বিশ্বাস, এই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিা নিয়ে আগামী বড় আসরগুলোতে আরো পরিণত ফুটবল খেলবে ইংল্যান্ড। যদিও বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন আরেকবার ভেঙে গেল, তবুও ইংল্যান্ডের সামনে এখনো তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ রয়েছে। সেই ম্যাচে জয় দিয়ে অন্তত টুর্নামেন্ট শেষ করতে চায় থ্রি লায়ন্সরা।

গোলের পর অতি রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে আক্ষেপ নেই ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেলের। এক গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর শেষ ৩৭ মিনিট রক্ষণ সামলাতে গিয়ে ১২ শতাংশ বল পজিশনে রাখতে পারে ইংলিশরা। তাই আর্জেন্টিনার কাছে হেরে যাওয়ার পর অনুমিতভাবেই কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে এই জার্মান কোচকে। কোচ অবশ্য নিজের ভাবনায় অটল, কৌশল নিয়ে কোনো আফসোস তার নেই। খেলার শুরু থেকে গোল করা পর্যন্ত সময়টায় বেশি ভাগ নিয়ন্ত্রণ ছিল ইংল্যান্ডের। এগিয়ে যাওয়ার পর হুট করেই বদলে যায় চিত্র। একদমই খোলসে ঢুকে যায় ইংলিশরা। গোল ধরে রাখার জন্য পুরোপুরি রণাত্মক হয়ে পড়ে তারা। এক পর্যায়ে এমনকি হ্যারি কেনও টানা রণ সামলাতেই ব্যস্ত থাকেন। তাই ম্যাচের পর কৌশলের প্রশ্নে টুখেল বললেন, তার ছক প্রায় সফল হয়েই যাচ্ছিল।

টুখেল বলেন, ‘এই বিষয়ে লাখ লাখ কোচের সাথে আলোচনা করতে পারেন। (কিন্তু) আমাকে মাঠেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আমি ম্যাচটি বিশ্লেষণ করেছি এবং একটি নির্দিষ্ট উপায়ে খেলেছি, তাই এটি আমার দায়িত্ব। এই মুহূর্তে কোনো আফসোস নেই। দল তাদের সর্বস্ব দিয়ে খেলেছে এবং আমরা জয়ের খুব, খুব কাছাকাছি ছিলাম।’

তিনি যোগ করেন, ‘পুরো টুর্নামেন্ট বিশ্লেষণ করার সময় এটা নয়, আমরা কেবল একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হেরেছি বলেই প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে গেছি।’