নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর ভাটারায় গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে ঘটনায় দগ্ধ মামা ও ভাগনির মৃত্যু হয়েছে। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে মারা যান তারা। বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় ৮ বছরের শিশু হাফসা এবং শুক্রবার সকাল ৬টায় শাহীনের (২৪) মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শাহীনের স্ত্রী ফাতিমা আক্তার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
গত ২১ জুলাই ভোরের দিকে রাজধানীর ভাটারার নতুন বাজার ১০০ ফিট এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের নিচতলার বাসায় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দগ্ধদের হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রতিবেশী মো: জসিম জানান, নিহত শাহীন পেশায় একটি দোকানের কর্মচারী ছিলেন। মঙ্গলবার ভোরের দিকে বিকট শব্দে গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকে হঠাৎ বিস্ফোরণ হয়। পরে দগ্ধ অবস্থায় তাদের দ্রুত উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা: শাওন বিন রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভাটারা এলাকা থেকে দগ্ধ হয়ে তিনজন হাসপাতালে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে শাহীন সকাল ৬টায় আইসিইউতে মারা যান। তার শরীরের ৫০ শতাংশ দগ্ধ ছিল। এর আগে তার ভাগনি হাফসা বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে আইসিইউতে মারা যায়; তার শরীরে ৪০ শতাংশ দগ্ধ ছিল। তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় দগ্ধ শাহীনের স্ত্রী ফাহিমা বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তার শরীরের ৪৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
সাভারে মশার কয়েল জ্বালাতেই আগুন : সাভার সংবাদদাতা জানান, সাভারের মজিদপুর দিঘীরপাড় এলাকায় গ্যাস লিকেজ থেকে অগ্নিকাণ্ডে স্বামী-স্ত্রী গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে মশার কয়েল জ্বালাতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। শুক্রবার ভোরে দগ্ধ স্বামী-স্ত্রী কায়সার (২৮) ও রুবি বেগমকে (২৪) উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়।
দগ্ধ কায়সারের বাবা মো: সীমান শেখ জানান, সাভারের মজিদপুর দিঘীরপাড় এলাকায় নূর মোহাম্মদের ২য় তলা ভবনের নিচতলায় ভাড়া থাকতেন গার্মেন্টকর্মী, তার ছেলে কায়সার ও তার স্ত্রী রুবি বেগম। বৃহস্পতিবার রাতে মশার কয়েল জ্বালানোর সময় ঘরে জমে থাকা গ্যাসে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। আগুন দ্রুত পুরো কক্ষে ছড়িয়ে পড়লে তারা দু’জনই গুরুতর দগ্ধ হন। পরে খবর পেয়ে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় দরজা ভেঙে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা: শাওন বিন রহমান জানায়, সাভার এলাকা থেকে এক দম্পতিকে বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। তাদের মধ্যে কায়সারের শরীরের ১০০ শতাংশ এবং তার স্ত্রী রুবির শরীরের ৮০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। দগ্ধের পরিমাণ বেশি থাকায় তাদের দু’জনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। দগ্ধ দু’জনকেই নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে।



