ফ্রান্স টুয়েন্টিফোর
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চার বছরের বেশি সময় পর সঙ্ঘাত বন্ধে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ সামনে এসেছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সাথে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সরাসরি আলোচনার প্রস্তাবকে যৌথভাবে সমর্থন দিয়েছে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি। তবে এই আলোচনার প্রস্তাব ইতিমধ্যে প্রত্যাখ্যান করেছে ক্রেমলিন।
র্বেবার লন্ডনের ডাউনিং স্ট্রিটে এক বিশেষ প্রতিরক্ষা বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আলোচনায় বসেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের সাথে। বৈঠক শেষে বিশ্বনেতাদের পক্ষ থেকে দেয়া এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে এবং পরবর্তী শান্তি আলোচনাকে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সক্রিয় অংশগ্রহণে ইউক্রেন-রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি সংলাপের প্রস্তাবকে তারা সমর্থন জানাচ্ছেন। বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, শান্তি আলোচনার শুরু হিসেবে যুদ্ধের ‘বর্তমান যোগাযোগ রেখা’ বা নিয়ন্ত্রণ রেখাটিকেই ভিত্তি ধরা উচিত। একই সাথে নেতারা জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক সীমান্ত পরিবর্তন করা যাবে না।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার এক চিঠির মাধ্যমে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সাথে মুখোমুখি বৈঠকের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছিলেন জেলেনস্কি। কিন্তু পুতিন এই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে জানান, একটি সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত না হলে জেলেনস্কির সাথে দেখা করার কোনো যৌক্তিকতা তিনি দেখছেন না। এ দিকে পুতিনের কাছে নিজের কঠোর বার্তা পৌঁছে দিতে ভিন্ন এক কূটনৈতিক কৌশল নিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। রোববার সন্ধ্যায় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি জানান, পুতিনের কাছে বিশেষ বার্তা পাঠাতে তিনি কিয়েভে রুশ ধনকুবের রোমান আব্রামোভিচের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন।
উল্লেখ্য, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর ক্রেমলিনের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছেন এই আব্রামোভিচ।
আব্রামোভিচের মাধ্যমে পুতিনের উদ্দেশ্যে জেলেনস্কি বলেন, ‘আপনারা আমাদের ভূখণ্ডেই আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন। কিন্তু আমরা আমাদের ভূখণ্ড ছেড়ে যাব না, আমরা আপনাদের কোনো বিজয় অর্জন করতে দেব না।’ একই সাথে তিনি পুতিনের সাথে মুখোমুখি সাক্ষাতের অনুরোধটি আবার পুনর্ব্যক্ত করেন। বর্তমানে ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আকাশসীমা সুরক্ষায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য পশ্চিমা মিত্রদের কাছে জরুরি ভিত্তিতে আরো গোলাবারুদ সরবরাহের অনুরোধ জানিয়ে আসছে কিয়েভ। জেলেনস্কি এখন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির জন্য মিত্র দেশগুলোর সাথে নানা উপায়ে এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।



