মো: আবদুস সালিম
বিশ্বে এক অদ্ভুত প্রাণী ‘পাণ্ডা পিঁপড়া’। জানলে অবাক হবে, নাম পাণ্ডা পিঁপড়া হলেও আদতে ওরা পিঁপড়া নয়; ভীমরুল বা বোলতা জাতীয় প্রাণী। এরা দৈর্ঘ্যে প্রায় দুই সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। স্ত্রী পিঁপড়ারা দৈর্ঘ্যে (হুলসহ) ৭-৮ মিলিমিটার।
পাণ্ডা পিঁপড়ার ইংরেজি নাম ‘প্যান্ডা অ্যান্ট’ (Panda ant)। বৈজ্ঞানিক নাম Euspinolia militaris। এদের শরীরে পাণ্ডাদের শরীরের মতো সাদা-কালো রঙের বাহার রয়েছে। মূলত এ কারণে এ পিঁপড়ার নাম হয়েছে পাণ্ডা পিঁপড়া।
এ পিঁপড়া কোনো মানুষ বা অন্য কোনো বিশাল দীর্ঘ দেহের প্রাণীর শরীরে হুল ফুটালে তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে যেতে পারে। এ কারণে এ পিঁপড়াকে ‘কাউকিলারও’ বলা হয়। তবে ওরা অকারণে আক্রমণ করে না বা হুল ফুটায় না। বিরক্ত করলে ওরা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে।
এরা বালু ও ছোট নুড়িপাথর আছে, এমন জায়গায় বসবাস করতে বেশি পছন্দ করে। এদের মাথার রঙ সাদা। তার মাঝে ছোট ও কালো দুটো চোখ। কালোর ওপর ছোপ ছোপ সাদা রঙ দেখা যায় দেহের মাঝে। আর সাদার ওপর কালো দাগ রয়েছে পেছনের দিকে।
এ পিঁপড়ার ক্ষেত্রে পুরুষ ও স্ত্রীতে বড় পার্থক্য নেই। তবে পুরুষ পাণ্ডা পিঁপড়ার পাখা আছে। স্ত্রী পিঁপড়ার পাখা নেই। আকারে বড় পুরুষেরা; স্ত্রীরা পুরুষের তুলনায় ছোট হলেও স্বাস্থ্য ভালো। শুধু স্ত্রী পাণ্ডার শরীরে দেখা যায় সাদা-কালোর মিশেল। উড়তে পারে না স্ত্রীরা। ডানা বা পাখার বদলে রয়েছে লোমশ ও ভয়ানক এক হুল। তা দেখেই চেনা যায় স্ত্রীদের। এ পিঁপড়া দেখা যায় চিলি, মেক্সিকো, আর্জেন্টিনা প্রভৃতি দেশে। বসবাস করে মাটির গর্তে।
পুরুষেরা চলাফেরা করে দিনে। আর স্ত্রীদের চলাফেরা রাতে। পুরুষের নেই হুল। স্ত্রীর বিষাক্ত হুল এক সময়ে রূপ নেয় ডিম পাড়ার অঙ্গে। পাণ্ডা পিঁপড়ারা বোলতা বা ভীমরুলদের মতো একা থাকে। তবে সঙ্গীর খোঁজ করে প্রজননের সময়ে।
স্ত্রী পিঁপড়া ডিম পাড়ে প্রায় দুই হাজার করে। ডিম দেয় অন্য পিঁপড়া বা কীট-পতঙ্গের বাসায়। ওই কীট-পতঙ্গদের খেয়ে বাঁচে নতুন বা সদ্য জন্ম হওয়া পান্ডার পিঁপড়ার বাচ্চারা। পাণ্ডা পিঁপড়াদের জীবনকাল প্রায় দুই বছর।



