ডেঙ্গুতে চলতি বছরে আক্রান্ত ১৫ হাজার মৃত্যু ৫৪ ছাড়াল

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই মাসে প্রতিদিন একজনের মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গুতে। অপর দিকে দৈনিক ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫১০ জন। বলা চলে জুলাই মাসেই ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। অপর দিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১৫৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে একজনের মৃত্যুও হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৩১০ জনে, এবং মৃত্যু হয়েছে ৫৪ জনের।

গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম প্রকাশিত দৈনিক ডেঙ্গু প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ৭৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশন বাদে)। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৯ জন, বরিশাল বিভাগে ৪ জন এবং খুলনা বিভাগে ৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময় অন্য বিভাগগুলোতে নতুন কোনো মৃত্যুর খবর না থাকলেও খুলনা বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে। রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন এলাকায়ও ডেঙ্গু সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১১ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৫ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তদের মধ্যে ১৪ হাজার ৮৯ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এক হাজার ১৬৭ জন ডেঙ্গু রোগী।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মোট আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা মহানগরীর বাইরে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও বরিশাল বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা এখনো সর্বোচ্চ তিন হাজার ৩০২ জন। এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে দুই হাজার ৬৪৯ জন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ছাড়া ঢাকা বিভাগের হাসপাতালগুলোতে দুই হাজার ৫৯ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দুই হাজার ১৮৮ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে এক হাজার ৫৩৭ জন এবং খুলনা বিভাগে এক হাজার ৯৪৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে ২১-২৫ বছর বয়সী তরুণদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া ১৬-৩০ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর মধ্যেও সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য। আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের হার ৫২.৩ শতাংশ এবং নারীর হার ৪৭.৭ শতাংশ।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার বেড়ে যাওয়ায় সংক্রমণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা বাসাবাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন এবং আশপাশে পানি জমতে না দেয়ার পাশাপাশি জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তি, পরিবার ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। একই সাথে জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা ও প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।