আর্সেনালের দুয়ো থেকে সুইজারল্যান্ডের নায়ক জাখা

Printed Edition

আশিকুর রহমান

একসময় আর্সেনাল সমর্থকদের দুয়ো শুনতে হয়েছিল তাকে। ক্লাবের অধিনায়কত্বও হারিয়েছিলেন। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে তার ক্যারিয়ার শেষ বলেই মনে করেছিলেন অনেকেই। কিন্তু কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই গ্রানিত জাখাই এখন সুইজারল্যান্ডের অন্যতম বড় ভরসা এবং প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে প্রভাবশালী মিডফিল্ডারদের একজন।

২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি জাখা। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজতেই হাঁটু গেড়ে বসে আনন্দাশ্রু ঝরান সুইস অধিনায়ক। ১৯৫৪ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে সুইজারল্যান্ড, আর সেই সাফল্যের অন্যতম স্থপতি জাখা।

ভ্যাঙ্কুভার স্টেডিয়ামে কলম্বিয়ার সমর্থকদের প্রবল উপস্থিতির মধ্যেও অসাধারণ লড়াই করে জয় তুলে নেয় সুইজারল্যান্ড। দলটির লড়াকু মানসিকতার প্রতীক হয়ে ওঠেন ১৫১ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার।

তবে এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প। ২০১৯ সালে আর্সেনালের হয়ে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে ম্যাচে বদলি হওয়ার সময় নিজ দলের সমর্থকদের দুয়োর মুখে পড়েছিলেন জাখা। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় তিনি কানে হাত দিয়ে সমর্থকদের উদ্দেশে ইঙ্গিত করেছিলেন। সেই ঘটনার পর তৎকালীন কোচ উনাই এমেরি তার কাছ থেকে অধিনায়কত্ব কেড়ে নেন এবং ক্লাব ছাড়াটা সময়ের ব্যাপার বলেই মনে হচ্ছিল।

কিন্তু ভাগ্যের মোড় ঘুরে যায় মিকেল আর্তেতা দায়িত্ব নেয়ার পর। কঠোর পরিশ্রম, নেতৃত্বগুণ এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিয়ে আবারো সমর্থকদের আস্থা অর্জন করেন জাখা। পরে আর্সেনালের অধিনায়ক হিসেবেই ২০২০ সালে এফএ কাপ জয়ের স্বাদ পান।

এরপর বায়ার লেভারকুসেনে যোগ দিয়ে জার্মান ক্লাবটিকে অপরাজিত থেকে লিগ ও কাপের জোড়া শিরোপা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন জাখা। গত মৌসুমে নবাগত সান্ডারল্যান্ডে যোগ দিয়েও নিজের প্রভাব দেখান তিনি। তার নেতৃত্বে দলটি শুধু অবনমন এড়িয়েই ক্ষান্ত হয়নি বরং প্রিমিয়ার লিগে সপ্তম হয়ে আগামী মৌসুমের ইউরোপা লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে।

এবার কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের সামনে কঠিন পরীক্ষা। প্রতিপক্ষ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার কঠিন লড়াই সুইসদের আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে।

জাখার বিশ্বাস, এই প্রজন্মের সুইজারল্যান্ড বিশেষ কিছু করতে পারে। তার ভাষায়, ‘আমাদের বর্তমান প্রজন্মটি অসাধারণ। আমরা অনেক দিন ধরে এমন একটি দলের অপেক্ষায় ছিলাম। অভিজ্ঞরা তরুণদের কাছে নিজেদের অভিজ্ঞতা পৌঁছে দিচ্ছি। আমরা বিশ্বাস করি- ছোট দেশ হলেও এই পর্যায়ে সবকিছুই সম্ভব।’