মক্কা চুক্তি বিবেচনায় নিতে জাতীয় স্বার্থ অগ্রাধিকার দেয়া হবে : শামা ওবায়েদ

Printed Edition

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, মক্কা চুক্তিতে যোগ দেয়ার যেকোনো সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে বিবেচনায় নেয়া হবে। বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত এই চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ পায়নি। চুক্তি সইকারী দেশগুলোর কাছ থেকে আমন্ত্রণ পেলে আমরা সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখব।

গতকাল মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ঢাকা সফররত ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সই হয়েছে। ত্রিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় গত সোমবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় এ জোটের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকের পর জোটে আরো ছয়-সাতটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ যোগ দিতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। অন্য দিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, জোটটি নতুন সদস্য গ্রহণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, তবে সে ক্ষেত্রে নির্ধারিত কিছু শর্ত ও মানদণ্ড বজায় রাখতে হবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের আরো বোয়িং কেনার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত এবং ভারতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের সাম্প্রতিক মন্তব্যটি সম্ভবত দেশটির সাথে ইতঃপূর্বে সম্পাদিত উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সংক্রান্ত ছিল।

গত রোববার এক্স হ্যান্ডেলে দেয়া এক পোস্টে সার্জিও গোর লিখেছেন, এই সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আরো একটি অবিশ্বাস্য চুক্তি করেছেন। বাংলাদেশ আরো বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার জন্য বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা তাদের প্রাথমিক অর্ডার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সই হওয়া বাণিজ্য চুক্তির আওতায় বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বাংলাদেশ। গত ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত চুক্তি সই করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। চুক্তির অধীনে আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দু’টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার ও চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স কেনা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে আরো শক্তিশালী করতে আইপিইউ এ দেশের সাথে কাজ করবে এবং তাদের সহযোগিতা বাড়াবে। আইপিইউ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তারা সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্য এবং নারী সংসদ সদস্যদের সাথে কথা বলেছেন। আইপিইউ নতুন সংসদকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ ও প্রথমবারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্য থাকায় প্রতিনিধিদল সন্তোষ প্রকাশ করেছে।