বিশেষ সংবাদদাতা
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব:) অলি আহমেদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গতকাল আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে যাচাই-বাছাই শেষে দু’জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। আগামী ১৮ আগস্ট মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময়। কোনো প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলে ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে ভোটগ্রহণ হবে। ইসি জানিয়েছে, বর্তমানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকায় ২৪৯ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন।
রোববার অলি আহমেদ এবং মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, অলি আহমেদের দু’টি এবং মির্জা ফখরুলের একটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। যাচাই শেষে দু’জনের মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
জামায়াতের ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব:) মো: আব্দুল বাতেন বলেন, অলি আহমেদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের কোনো সম্ভাবনা নেই। ১১ দলীয় ঐক্যজোট নির্বাচনে অংশ নেবে। অলি আহমেদের প্রস্তাবক জামায়াতের আমির এবং সমর্থক এনসিপির সংসদ সদস্য আল-আমিন।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কারের দাবির প্রসঙ্গে আব্দুল বাতেন বলেন, এটি সংস্কার হলে সংসদ সদস্যরা নিজস্ব মতামত প্রকাশের সুযোগ পাবেন। অন্য দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ১৩ আগস্ট মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়। এতে প্রস্তাবক ছিলেন আব্দুল মঈন খান এবং সমর্থন করেন তিনি নিজে। যাচাই-বাছাইয়ে কোনো ত্রুটি না থাকায় প্রার্থিতা বৈধ হয়েছে। ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের বিষয়ে তিনি বলেন, সংবিধান পরিবর্তনের বিষয়টি সংসদেই আলোচিত হওয়া উচিত। বিদ্যমান সংবিধান অনুসারেই রাজনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
ইসি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯১ সালে। সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ প্রণয়ন করা হয়। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ ও সমমনা দলের প্রার্থী বদরুদ্দোজা হায়দার চৌধুরী পান ৯২ ভোট। এরপর রাষ্ট্রপতি পদে আর ভোট হয়নি।
বর্তমান সংসদে সাধারণ ও সংরক্ষিত আসন মিলিয়ে বিএনপি ও সমমনাদের সদস্যসংখ্যা বেশি হওয়ায় মির্জা ফখরুলই জয় পেতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ইসি কর্মকর্তারা। তবে ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষ হওয়ার পরই চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিশ্চিত হবে।



