পেঁয়াজ চাষে লোকসানের মুখে দুর্গাপুরের কৃষকরা

Printed Edition
দুর্গাপুরে পেঁয়াজের উৎপাদন ভালো হলেও দাম কম : নয়া দিগন্ত
দুর্গাপুরে পেঁয়াজের উৎপাদন ভালো হলেও দাম কম : নয়া দিগন্ত

দুর্গাপুর (রাজশাহী) সংবাদদাতা

রাজশাহীর দুর্গাপুরে পেঁয়াজের দামে ধস নেমে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। মৌসুমের শুরুতে ভালো দামের আশায় ব্যাপক আবাদ করলেও গত দেড় মাস ধরে বাজারে মূল্যপতনের কারণে উৎপাদন খরচই উঠছে না, উল্টো লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষিদের।

গতকাল মঙ্গলবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বেশি থাকায় ক্রেতার তুলনায় বিক্রেতার সংখ্যা বেড়ে গেছে। ফলে কৃষকরা বাধ্য হয়ে কম দামে পণ্য বিক্রি করছেন। বর্তমানে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৯০০ টাকায়, যা উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় অনেক কম।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে দুর্গাপুরে প্রায় দুই হাজার ১৭০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। কৃষকদের হিসাবে, সার, বীজ, কীটনাশক, শ্রমিক মজুরি, সেচ ও পরিবহন ব্যয়সহ প্রতি মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ পড়েছে প্রায় এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা। এতে প্রতি মণে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে।

বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা কৃষক আসলাম আলী বলেন, ‘উৎপাদন খরচ এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা হলেও এখন ৬০০-৭০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে বড় ধরনের লোকসান হচ্ছে।’ গোপালপুর গ্রামের কৃষক আশেক উদ্দিন জানান, এক মাস আগেও বাজারে ভালো দাম ছিল; কিন্তু হঠাৎ করে মূল্যপতনে চাষিরা বিপাকে পড়েছেন। তিনি বলেন, ‘যাদের ফলন কম হয়েছে তারা আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।’

ব্যবসায়ীরাও লোকসানের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তাহেরপুর বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী কুদ্দুস মিঞা বলেন, বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২০ থেকে ২৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে, এতে প্রতি কেজিতে ১-২ টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে। দুর্গাপুরে সপ্তাহজুড়ে সিংগাহাট, কানপাড়া ও পাশের তাহেরপুরসহ বিভিন্ন হাটে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকাররা এলেও চাষিরা কাক্সিক্ষত দাম পাচ্ছেন না। অনেকেই ঋণ পরিশোধের চাপে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা পারভীন লাবনী বলেন, বাজারে চাহিদা কম থাকায় দাম কমেছে। তিনি কৃষকদের কিছুদিন পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে রাখার পরামর্শ দেন। তবে সংরক্ষণ সুবিধার অভাব এবং আর্থিক চাপে অনেক কৃষকের পক্ষে তা সম্ভব হচ্ছে না।

কৃষকদের দাবি, দ্রুত বাজার ব্যবস্থাপনায় নজরদারি, সংরক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি ও সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়া এই সঙ্কট কাটানো কঠিন হবে। নচেৎ ধারাবাহিক লোকসানে ভবিষ্যতে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।