শাহেদ মতিউর রহমান
বেসরকারি পর্যায়ের স্কুলে কলেজে কমিটির মাধ্যমে নিয়োগকৃত শিক্ষকরা বদলির আবেদনের সুযোগ পাবেন না। নতুন নীতিমালার এমন কিছু শর্ত নিয়ে ইতোমধ্যে বেশ জঠিলতাও তৈরি হয়েছে। যদিও সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে সুপারিশকৃত শিক্ষকদের বদলির সুযোগ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। তবে এই সুযোগ শুধুমাত্র ২০১৬ সালের পরে এনটিআরসিএর মাধ্যমে সুপারিশকৃত শিক্ষকদের জন্যই প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ ২০০৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যেসব শিক্ষক এনটিআরসিএর নিবন্ধন সনদপ্রাপ্ত হয়ে কিংবা সনদ ছাড়া শিক্ষক হিসেবে কমিটির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন তারা নতুন নিয়মের এই বদলির সুযোগ পাবেন না।
এ দিকে নতুন নিয়মের এই কঠিন বেড়াজালে আটকে গিয়ে সরকারের কাছে বদলির সুযোগ চেয়ে আবেদন করেছেন সনদপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। গত ২ জুলাই বদলি প্রত্যাশী এনটিআরসিএ নিবন্ধিত শিক্ষক ফোরামের সংগঠনের প্যাডে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৯ জন শিক্ষক স্বাক্ষর করে একটি আবেদন শিক্ষা উপদেষ্টা বরাবরে মন্ত্রণালয়ে জম দিয়েছেন। সেই আবেদনে তারা বলেছেন, অন্যান্য শিক্ষকদের মতো তারাও বদলির সুযোগ চান। কেননা দেশের বিভিন্ন বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কয়েক লাখ শিক্ষক রয়েছেন যারা এনটিআরসিএ থেকে নিবন্ধন নিয়ে শিক্ষকতা পেশায় এসেছেন। এই শিক্ষকরা নামে মাত্র ১২ হাজার ৭৫০ টাকা নিট বেতনে এবং মাত্র এক হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া, ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পেয়ে শিক্ষকতা করছেন। তারা দীর্ঘ দিন ধরে নিজ বাড়ির বাইরে থেকে শিক্ষকতা করছেন। অনেকে নিজের পরিবার পরিজন থেকে বছরের পর বছর ধরেই দূরে রয়েছেন।
আবেদনে স্বাক্ষর করা শিক্ষকদের একজন এই প্রতিবেদককে জানান, যেহেতু আমরা একই প্রতিষ্ঠানে সমমানের পদবিতে চাকরি করছি তাই সবার জন্যই একই সুযোগ থাকা বাঞ্ছনীয়। ২০১৬ সালের পরে চাকরিতে আসা শিক্ষকরা যদি বদলির সুযোগ পেতে পারেন তাহলে আমরাও যারা আগে চাকরিতে যোগদান করেছি তারাও একইভাবে বদলির এই সুযোগ পাওয়ান অধিকার রাখি। অন্যথায় আমাদের শিক্ষকদের মধ্যেই বিভাজন ও বৈষম্যের সৃষ্টি হবে।
অপর দিকে শিক্ষকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিন ধরনের শিক্ষক রয়েছেন। অনেক আগে যারা শিক্ষকতা পেশায় এসেছেন, কোনো নিবন্ধন পরীক্ষা বা এনটিআরসিএর সুপারিশের প্রয়োজন হতো না তাদের। আবার মধ্যভাগে একটি গ্রুপ আছেন যারা শুধু নিবন্ধন পরীক্ষা দিয়ে এনটিআরসিএর সনদ নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কমিটির মাধ্যমে পরীক্ষা দিয়ে (মৌখিক বা লিখিত অথবা দুটোই) শিক্ষকতা পেশায় চাকরি নিয়েছেন।
আবার ২০১৬ সালের পর থেকে নিবন্ধন পরীক্ষার মাধ্যমে এনটিআরসিএ সনদ দেয়ার পাশাপাশি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে শিক্ষকদের শূন্যপদে নিয়োগের সুপারিশও করে থাকে। এখানে প্রথম এবং দ্বিতীয় ভাগের শিক্ষকরা কমিটির মাধ্যমে নির্দিষ্ট একটি স্কুলের জন্যই চাকরি নিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে অনেক সময় স্বজনপ্রীতি কিংবা অর্থের লেনদেন কিংবা কাম্য যোগ্যতা না থাকলেও তারা শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। আবার অনেকে রাজনৈতিক বিবেচনায়ও চাকরি পেয়েছেন।
তাই শুধু এনটিআরসিএর মাধ্যমে মেধা ও দক্ষতার প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় যারা চাকরি নিয়েছেন তারাই কেবল বদলির নতুন নিয়মে আবেদন করে কর্মস্থল পরিবর্তনের সুযোগ পাবেন।



