১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমলো ৩৫৭ টাকা

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

ভোক্তাপর্যায়ে ১২ কেজির এলপি গ্যাসের দাম কমলো ৩৫৭ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম কমে যাওয়ার প্রভাবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গতকাল জুলাই মাসের জন্য এলপিজি ও অটোগ্যাসের নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার ৫২৮ টাকা। বিদায়ী মাসে যা ছিল এক হাজার ৮৮৫ টাকা। একই সাথে অটোগ্যাসের দামও লিটারপ্রতি ১৬ টাকা ৫৩ পয়সা কমিয়ে ৭০ টাকা ৪০ পয়সা করা হয়েছে। নতুন এ দাম বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকেই কার্যকর করা হয়েছে।

গতকাল বিইআরসির প্রকাশিত আদেশে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির মূল্য হ্রাস পাওয়ায় দেশের বাজারেও সেই প্রভাব বিবেচনায় এনে নতুন মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার পর বিশ্ববাজারে এলপিজির দর কমতে শুরু করে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি কেজি বোতলজাত এলপিজির সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১২৭ টাকা ৩০ পয়সা, যা আগের মাসে ছিল ১৫৭ টাকা ৬ পয়সা। অর্থাৎ প্রতি কেজিতে ২৯ টাকা ৭৬ পয়সা কমেছে। এই হার অনুযায়ী ১২ দশমিক পাঁচ কেজির সিলিন্ডারের দাম এক হাজার ৫৯১ টাকা, ১৫ কেজির এক হাজার ৯১০ টাকা, ১৬ কেজির দুই হাজার ৩৭ টাকা, ১৮ কেজির দুই হাজার ২৯১ টাকা, ২০ কেজির দুই হাজার ৫৪৬ টাকা, ২২ কেজির দুই হাজার ৮০১ টাকা, ২৫ কেজির তিন হাজার ১৮৩ টাকা, ৩০ কেজির তিন হাজার ৮১৯ টাকা, ৩৩ কেজির চার হাজার ২০১ টাকা, ৩৫ কেজির চার হাজার ৪৫৬ টাকা এবং ৪৫ কেজির সিলিন্ডারের মূল্য পাঁচ হাজার ৭২৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শুধু বোতলজাত এলপিজিই নয়, রেটিকুলেটেড পদ্ধতিতে সরবরাহ করা এলপিজির মূল্যও কমানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তরল অবস্থায় সরবরাহ করা বেসরকারি এলপিজির দাম প্রতি কেজি ১২৩ টাকা ৫৫ পয়সা এবং গ্যাসীয় অবস্থায় সরবরাহ করা এলপিজির দাম প্রতি ঘনমিটার ২৭৪ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কমিশন স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছে, নির্ধারিত দামের বেশি মূল্যে বোতলজাত এলপিজি, রেটিকুলেটেড এলপিজি কিংবা অটোগ্যাস বিক্রি করা যাবে না। তবে সরকারি পর্যায়ে সরবরাহ করা এলপিজির দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। সরকারি ১২ দশমিক পাঁচ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য আগের মতোই ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সা বহাল থাকবে। অন্য দিকে সরকারি বিপণন কোম্পানির বাজারজাতকৃত সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের মূল্যও অপরিবর্তিত রয়েছে।

এর আগে গত ২ জুন বিইআরসি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক হাজার ৯৪০ টাকা থেকে কমিয়ে এক হাজার ৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে প্রথমে ৫৫ টাকা এবং এবার আরও ৩৫৭ টাকা কমানো হয়েছে। ফলে দুই মাসে মোট ৪১২ টাকা কমেছে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম, যা গৃহস্থালি ব্যবহারকারী ও অটোগ্যাসনির্ভর পরিবহন খাতের জন্য উল্লেখযোগ্য স্বস্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

২০২১ সালের এপ্রিল থেকে বিইআরসি আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি মাসে এলপিজির দাম সমন্বয় করে আসছে। মূল্য নির্ধারণে সৌদি আরামকোর ঘোষিত কনট্রাক্ট প্রাইস, আন্তর্জাতিক পরিবহন ব্যয়, ট্রেডারের প্রিমিয়াম এবং ডলারের বিনিময় হারকে ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য নিম্নমুখী থাকলে দেশের ভোক্তারাও তার সুফল পান, আর দাম বাড়লে তার প্রভাবও দেশীয় বাজারে প্রতিফলিত হয়। সর্বশেষ এই মূল্যহ্রাস সেই নীতিরই ধারাবাহিক বাস্তবায়ন।