এলামী মোহাম্মদ কাউসার আলী, কায়রো (মিসর)
মিশরের কায়রোতে উচ্চশিক্ষা ও উন্নত ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে গিয়ে মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে দুই বাংলাদেশীর মৃত্যুতে চিরতরে নিভে গেল, তাদেরকে ঘিরে পরিবারের আশার প্রদীপ। আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গিয়ে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন গাজীপুরের তরুণ ইমাম মাহমুদ সা’দ। অন্যদিকে, সুন্দর শৈশব ও উন্নত শিক্ষার আশায় মায়ের সাথে দেশটিতে গিয়ে আকস্মিক জ্বরে প্রাণ হারিয়েছে নওগাঁর ফুটফুটে শিশু রাইমান ইসলাম। এ ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশী এবং দেশে তাদের নিজ নিজ গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
আল আজহারে পড়ার স্বপ্ন পূরণ হলো না সা’দের : গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার চুপাইর গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে ইমাম মাহমুদ সা’দ। বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পেয়ে কায়রোতে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু কায়রো পৌঁছানোর ২০-২৫ দিনের মাথায় হঠাৎ তার ডায়াবেটিস মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। একই সাথে বেশ কয়েকদিন তীব্র জ্বরে ভুগছিলেন তিনি। অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত কায়রোর খাইরুল মিনারা হসপিটালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তিনি মারা যান। বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর জাকির হোসেনের সহযোগিতায় সা’দের লাশ আইনি প্রক্রিয়া শেষে দেশে তার পরিবারের কাছে পাঠানোর কাজ চলছে।
মায়ের কোল খালি করে চলে গেল শিশু রাইমান : নওগাঁর রানীনগর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের মাহবুব ইসলাম ও মোসা: বিনা দম্পতির একমাত্র আদরের সন্তান রাইমান ইসলাম। মিশরের উন্নত ও ধর্মীয় শিক্ষার পরিবেশে সন্তানকে বড় করার স্বপ্ন নিয়ে রাইমানকে কায়রোতে নিয়ে এসেছিলেন তার মা। সুস্থ শরীরে দিন কাটাচ্ছিল রাইমান। কিন্তু হঠাৎ করেই তার শরীর ১০৬ থেকে ১০৭ ডিগ্রি তীব্র জ্বরে কেঁপে ওঠে। পরিবার দেরি না করে তাকে নিয়ে আব্বাসিয়ার হুম্মিয়াত হসপিটালের উদ্দেশে রওনা দেয়। কিন্তু পথিমধ্যেই শিশুটি দুই দুইবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের শিকার হয়। এর ফলে তার ব্রেনে অক্সিজেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হলেও দুই দিন মৃত্যুর সাথে লড়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে শিশুটি।
রাইমানের বাবা মাহবুব ইসলাম সৌদি আরব প্রবাসী। আকস্মিক এই বিপদের সময় জরুরি ভিসা না থাকার কারণে তিনি মিশরে আসতে পারেননি। ফলে দূর পরবাসে বসেই তাকে শুনতে হয়েছে কলিজার টুকরো সন্তানের মৃত্যুর খবর; অংশ নিতে পারেননি নিজের সন্তানের দাফনকার্যেও।
এ দিকে দূতাবাস ও স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশীদের সহায়তায় শিশু রাইমানের দাফন হয়েছে। মিশরের মাটিতে বাংলাদেশীদের জন্য নির্দিষ্ট গোরস্থান ‘আবুরের হানতাশ কবরস্থানে’ তাকে চিরশায়িত করা হয়।
কায়রোতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই দু’টি ঘটনা প্রবাসী বাংলাদেশীদের অশ্রুসিক্ত করেছে।



