দ্বীপ জেলা ভোলা

ফায়ার সার্ভিস ইউনিটে নেই ডুবুরি ও স্পিডবোট, বাড়ছে দুর্ভোগ

Printed Edition

সাহাদাত শাহিন ভোলা

  • প্রস্তাবিত দু’টি রিভার ফায়ার স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগও দীর্ঘদিন ধরে ফাইলবন্দী
  • এক বছরে নদী ও পুকুরে ডুবে দেড় শতাধিক প্রাণহানি এবং শতাধিক নৌকাডুবি

চারদিকে নদী ও সাগরবেষ্টিত দ্বীপ জেলা ভোলা। প্রতিনিয়ত নদীতে ডুবে নিখোঁজ বা নৌদুর্ঘটনা ঘটলেও জেলা ফায়ার সার্ভিস ইউনিটে নেই কোনো নিজস্ব ডুবুরি দল বা দ্রুতগতির স্পিডবোট। ফলে দুর্ঘটনায় উদ্ধার কাজের জন্য সর্বদা বরিশাল থেকে আসা ডুবুরি দলের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যার দরুন বিলম্বে উদ্ধার কাজ শুরু হওয়ায় বাড়ছে প্রাণহানি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলাজুড়ে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট থাকলেও ডুবুরি বা আধুনিক জলযান না থাকায় সময়মতো উদ্ধার অভিযান শুরু করা সম্ভব হয় না। সম্প্রতি ভোলার শিবপুরে মেঘনা নদীর পাড়ে জিও ব্যাগ ধসে নিখেঁাঁজ হন দুই ব্যক্তি। স্থানীয়রা উদ্ধার শুরু করতে না পারায় পানিতে ডুবে তাদের মৃত্যু হয়। নদীর তীরে ঘুরতে গিয়ে স্বজন হারানোর এমন ঘটনায় জেলাজুড়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তীব্র হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দুর্ঘটনা ঘটলে বরিশাল থেকে ডুবুরি দল পৌঁছাতে অন্তত কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যায়। ততক্ষণে নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে আসে। শিবপুরের ঘটনায় নিহত ব্যক্তির ভাই মিরাজ আক্ষেপ করে বলেন, ভোলায় ফায়ার সার্ভিস আছে কিন্তু ডুবুরি নেই। তাৎক্ষণিক ডুবুরি দল থাকলে হয়তো আমার ভাইকে এভাবে জীবন দিতে হতো না। জেলার চরাঞ্চলে নৌদুর্ঘটনা বা অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনায় তাৎক্ষণিক যোগাযোগের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির মাত্রা বহুগুণ বাড়ছে।

স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সাংবাদিকরা জানান, নদীমাতৃক এ জেলায় দ্রুত উদ্ধারকাজের জন্য ফায়ার সার্ভিস ইউনিটকে আধুনিকায়ন করা জরুরি। ভোলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনটি ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও আজও এটি দ্বিতীয় শ্রেণীর ফায়ার স্টেশন হিসেবেই রয়ে গেছে। প্রস্তাবিত দু’টি রিভার ফায়ার স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগও দীর্ঘদিন ধরে ফাইলবন্দী হয়ে আছে। সরকারি ও বেসরকারি তথ্যানুযায়ী, গত এক বছরে জেলায় নদী ও পুকুরে ডুবে দেড় শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং শতাধিক নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে।

ভোলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার খন্দকার মিরাজুল ইসলাম বলেন, ডুবুরি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় পানিবন্দী বা নদীতে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। সার্বিক সঙ্কট স্বীকার করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, ভোলার উপপরিচালক লিটন আহমেদ জানান, ভোলা ফায়ার সার্ভিসকে প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত করা, নিজস্ব ডুবুরি ইউনিট গঠন, রিভার ফায়ার স্টেশন নির্মাণ ও আধুনিক স্পিডবোট বরাদ্দের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। ব্যবস্থা নেয়া হলে এ সঙ্কট কেটে যাবে।