শিরোপাপ্রত্যাশী ব্রাজিলের সামনে আত্মবিশ্বাসী মরক্কো

Printed Edition
প্রথম ম্যাচে খেলার সম্ভাবনা না থাকলেও প্র্যাকটিসে মনোযোগী দেশের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার (বাঁয়ে), ম্যাচটা ব্রাজিলের বিপক্ষে। তারপরও নির্ভার মরক্কোর তারকা আশরাফ হাকিমি : ইন্টারনেট
প্রথম ম্যাচে খেলার সম্ভাবনা না থাকলেও প্র্যাকটিসে মনোযোগী দেশের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার (বাঁয়ে), ম্যাচটা ব্রাজিলের বিপক্ষে। তারপরও নির্ভার মরক্কোর তারকা আশরাফ হাকিমি : ইন্টারনেট

ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের অভিযানে মাঠে নামছে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিল। গ্রুপ ‘সি’-এর উদ্বোধনী ম্যাচে শনিবার নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী দল মরক্কোর মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। দুই দলের এই লড়াইকে শুধু গ্রুপ পর্বের ম্যাচ হিসেবে নয়, বরং টুর্নামেন্টের অন্যতম আকর্ষণীয় উদ্বোধনী দ্বৈরথ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

বিশেষ গুরুত্বের কারণও রয়েছে। কারণ এটি গ্রুপ পর্বের একমাত্র ম্যাচ যেখানে মুখোমুখি হচ্ছে ফিফা র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ দশে থাকা দু’টি দল। বর্তমানে ব্রাজিল ষষ্ঠ ও মরক্কো অষ্টম অবস্থানে রয়েছে। পরিসংখ্যানভিত্তিক পূর্বাভাসে ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও মরক্কোকে হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে ব্রাজিল এক অনন্য নাম। ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত প্রতিটি আসরে অংশ নেয়া একমাত্র দেশ তারা। সবচেয়ে বেশি পাঁচটি শিরোপাও তাদের দখলে। তবে দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে ট্রফিশূন্য অবস্থায় রয়েছে সেলেসাওরা। সর্বশেষ ২০০২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর কেটে গেছে প্রায় আড়াই দশক। এবারো ব্যর্থ হলে ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘ অপেক্ষার মুখে পড়বে ফুটবলপ্রেমী দেশটি।

চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল ব্রাজিলকে। সেই হতাশা এখনো ভুলতে পারেনি সমর্থকরা। এবার নতুন আশা হয়ে এসেছেন ইতালিয়ান কিংবদন্তি কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ২০২৫ সালে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিদেশী কোচ হিসেবে আনচেলত্তিকে দায়িত্ব দেয়।

ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলে প্রায় সব বড় শিরোপা জেতা এই কোচ এখন আন্তর্জাতিক ফুটবলেও ইতিহাস গড়তে চান। বিশ্বকাপ ও উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ দুই শিরোপাই জেতা কোচদের ক্ষুদ্র তালিকায় নিজের নাম যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে তার সামনে।

তবে আনচেলত্তির দল খুব একটা নিখুঁত প্রস্তুতি নিয়ে আসেনি। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে ব্রাজিল প্রত্যাশার তুলনায় পিছিয়ে ছিল এবং পঞ্চম স্থানে থেকে সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করে। সাম্প্রতিক সময়ে বলিভিয়ার কাছে হার এবং কয়েকটি অনিয়মিত পারফরম্যান্সও প্রশ্ন তুলেছে দলটির ধারাবাহিকতা নিয়ে।

তবে ইতিবাচক খবরও আছে। রাফিনিয়া দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ব্রাজিলের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোল অবদান ছিল তার। ক্লাব পর্যায়েও বার্সেলোনার হয়ে অসাধারণ মৌসুম কাটিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, ব্রুনো গিমারাইস, লুকাস পাকেতা ও কাসেমিরোর অভিজ্ঞতা দলকে ভারসাম্য দেবে।

অন্য দিকে মরক্কো এখন আর শুধু আফ্রিকার প্রতিনিধিত্বকারী দল নয়, তারা বিশ্ব ফুটবলের প্রতিষ্ঠিত শক্তিতে পরিণত হওয়ার পথে। ২০২২ বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে সেমিফাইনালে উঠেছিল তারা। সেই সাফল্যকে আর কাকতালীয় বলা যাচ্ছে না।

২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে মরক্কো ছিল দুর্দান্ত। আট ম্যাচের সবগুলো জিতে মূল পর্বে জায়গা করে নেয় আশরাফ হাকিমিরা। সাম্প্রতিক কয়েক বছরে দলটির উন্নতির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে শক্তিশালী কাঠামো, ইউরোপভিত্তিক খেলোয়াড় এবং সংগঠিত ফুটবল দর্শন।

দলের বড় ভরসা অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি। সাথে আছেন ব্রাহিম দিয়াজ, সফিয়ান আমরাবাত, ইসমাইল সাইবারি ও বিলাল এল খান্নুস। বিশেষ করে সাইবারির সাম্প্রতিক মৌসুমের পারফরম্যান্স ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর নজর কেড়েছে।

তবে ইনজুরি কিছুটা চিন্তায় রেখেছে মরক্কোকে। ডিফেন্ডার নায়েফ আগুয়ের্দ ও উইঙ্গার আব্দে এজ্জালজৌলি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন। নুসাইর মাজরাউইয়ের খেলাও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চিত।

অন্য দিকে ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার এখনো কাফ ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে পারেননি এবং প্রথম ম্যাচে তার খেলার সম্ভাবনা কম। রাইট-ব্যাক ওয়েসলিও চোটে বাইরে।

সম্ভাব্য একাদশে ব্রাজিলের আক্রমণে দেখা যেতে পারে কুনহা, রাফিনিয়া ও ভিনিসিয়ুসকে। আর মরক্কো ভরসা রাখবে দিয়াজ-সাইবারি ও এল খান্নুস ত্রয়ীর ওপর।

পরিসংখ্যান, অভিজ্ঞতা ও ইতিহাস ব্রাজিলকে এগিয়ে রাখলেও মরক্কো প্রমাণ করেছে বড় মঞ্চে তারা চমক দেখাতে জানে। ফলে বিশ্বকাপের শুরুতেই নিউ ইয়র্কে দেখা যেতে পারে উচ্চমানের, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং টুর্নামেন্টের গতিপথ বদলে দিতে পারে এমন এক ম্যাচ।