দ্য গার্ডিয়ান
ইয়েমেনের হাউছি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সমুদ্র ও স্থলপথে ব্যাপক সামরিক পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুতি জোরদার করছে সৌদি আরব। বিভিন্ন ইয়েমেনি সংবাদ মাধ্যমের বরাতে জানা যায়, লোহিত সাগর দিয়ে দেশের তেল রফতানি নিরবচ্ছিন্ন রাখতে হাউছিদের সম্ভ্যাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এই পদক্ষেপ নিচ্ছে রিয়াদ।
প্রভাবশালী সূত্রগুলোর দাবি, পূর্ব ইয়েমেনে অবস্থানরত সৌদি বাহিনীর একাংশকে প্রত্যাহার করে নিয়ে স্থল অভিযানের জন্য নতুনভাবে পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। পাশাপাশি লোহিত সাগর ও স্ট্র্যাটেজিক বাব আল-মান্দাব প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরবচ্ছিন্ন চলাচল সুনিশ্চিত করতে একটি বহুজাতি নৌজোট গঠনে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে রিয়াদ। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, সামুদ্রিক নিরাপত্তা অক্ষ গঠনে তুরস্ক, পাকিস্তান, মিসর, সুদান, জিবুতিসহ ১৪টি রাষ্ট্র ইতিবাচক সম্মতি প্রদান করেছে।
ইরান সমর্থিত হাউছি গোষ্ঠী বর্তমানে ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও লোহিত সাগরের উপকূলীয় বিশাল অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে। গত ২০ জুলাই তারা সৌদি বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর নৌ-অবরোধের ঘোষণা দিলেও সব ধরনের নৌযান থেকে টোল আদায়ের খবরটি অস্বীকার করেছে। হাউছিদের বক্তব্য, ইয়েমেনের ওপর আরোপিত অবরোধ সরিয়ে নিলেই কেবল তারা সৌদি নৌযানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। এটিকে তারা ইরান সঙ্ঘাত নয়, বরং ইয়েমেনের নিজস্ব ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ কেন্দ্রিক রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব হিসেবে বর্ণনা করছে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারকে সামরিক সমর্থন জোগাতে হাউছিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে সৌদি আরব।
লোহিত সাগরে নতুন গঠিত জোটে যোগ দিতে ওয়াশিংটনের পাশাপাশি বার্লিন, প্যারিস, লন্ডন ও রোমকেও আহ্বান জানানো হয়েছে। যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘অ্যাসপিডেস’ মিশন নামে একটি আন্তর্জাতিক নৌ বহর অঞ্চলটিতে নিয়মিত টহল পরিচালনা করে আসছে। গত ২৫ জুলাই হাউছিদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তারা সৌদির পূর্বাঞ্চলীয় খনি থেকে লোহিত সাগরের বন্দরে তেল পরিবহনের মূল অবকাঠামোর ওপর আক্রমণ চালিয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীর সাথে সাথে যদি লোহিত সাগরও সৌদি তেলবাহী জাহাজের জন্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে, তবে রিয়াদের সার্বিক জ্বালানি রফতানি চরম বিপর্যয়ে পড়বে। ইরান সঙ্কট শুরুর পূর্বে দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ তেল হরমুজ দিয়ে পরিবাহিত হতো। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে ইয়ানবু সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে লোহিত সাগরীয় পথটি রিয়াদের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাম্প্রতিক দুই সপ্তাহে হাউছি ও সৌদি বাহিনীর মধ্যে সঙ্ঘাত নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে। সৌদি আরামকোর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হাউছি হামলার জবাবে হাউসি নিয়ন্ত্রিত কৌশলগত হোদেইদা সমুদ্রবন্দরে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি বিমানবাহিনী। একই সময়ে লোহিত সাগরে একটি সৌদি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ আক্রান্ত হয়। এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব সাম্প্রতিক দিনগুলোতে নতুন রূপ ধারণ করেছে।



