আব্দুর রশীদ তারেক নওগাঁ
নওগাঁ জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন দলের ২৭ জন এবং স্বতন্ত্র পাঁচজনসহ মোট ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তাদের মধ্যে ২০ জন প্রার্থী এবার জামানত হারাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার ভোট গ্রহণ শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ফলাফল বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানা গেছে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিধি অনুযায়ী, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কোনো প্রার্থী যদি তার নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পান, তাহলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। সে হিসেবে নির্বাচনে এক-অষ্টমাংশ ভোট না পাওয়া ২০ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। এবার সংসদ সদস্য নির্বাচনে একজন প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা জামানত দিয়ে নির্বাচন করতে হয়েছে।
নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর-পোরশা-সাপাহার) আসনের পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে তিনজন জামানত হারাচ্ছেন। বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ডা: ছালেক চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে (মোটরসাইকেল) পেয়েছেন ১৮ হাজার ভোট। জাতীয় পার্টির আকবর আলী (লাঙ্গল) পেয়েছেন চার হাজার ২৪৩ ভোট, আর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো: আব্দুল হক শাহ (হাতপাখা) পেয়েছেন ৯ হাজার ৫৮ ভোট। ১৬৬টি কেন্দ্রে মোট প্রদত্ত ভোট সংখ্যা তিন লাখ ৬৭ হাজার ৫১১। যেহেতু তারা এক-অষ্টমাংশ ভোট পাননি, তাই তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
নওগাঁ-২ (পতœীতলা ও ধামুইরহাট) আসনে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, যার মধ্যে একজন জামানত হারাচ্ছেন। আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির মতিবুল ইসলাম ঈগল প্রতীকে পেয়েছেন দুই হাজার ৫৮০ ভোট। ১২৪টি কেন্দ্রে মোট প্রদত্ত ভোট দুই লাখ ৮৬ হাজার ৭০। এক-অষ্টমাংশ ভোট না পাওয়ায় জামানত বাজেয়াপ্ত হবে তার।
নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনে আট প্রার্থীর মধ্যে ছয়জন জামানত হারাবেন। সাবেক ডেপুটি স্পিকার আকতার হামিদ সিদ্দিকীর ছেলে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকি জনি (কলস) পেয়েছেন ১৭ হাজার ১২৯ ভোট। বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) আব্দুল্লাহ আল-মামুন সৈকত (টেলিভিশন) পেয়েছেন ১৯৫ ভোট, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কালিপদ সরকার (মই) পেয়েছেন এক হাজার ২৩৩ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী নাসির বিন আছগর (হাতপাখা) পেয়েছেন তিন হাজার ৬৪৩ ভোট, জাতীয় পার্টির মাসুদ রানা (লাঙ্গল) পেয়েছেন চার হাজার ৮৬৯ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদ্দাম হোসেন (জাহাজ) পেয়েছেন ৮২৩ ভোট। ১৪২টি কেন্দ্রে মোট প্রদত্ত ভোট তিন লাখ ২১ হাজার ৯৬৭। এরা সবাই জামানত হারাবেন।
নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে চারজন প্রার্থী জামানত হারাবেন। বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির ডা: এস এম ফজলুর রহমান (কাস্তে) পেয়েছেন দুই হাজার ৩১৩ ভোট, জাতীয় পার্টির আলতাফ হোসেন (লাঙ্গল) পেয়েছেন এক হাজার ৩২৭ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের সোহরাব হোসাইন (হাতপাখা) পেয়েছেন ৬০৯ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোসা: আরফানা বেগম (কলস) পেয়েছেন ৭১২ ভোট। ১১৭টি কেন্দ্রে মোট প্রদত্ত ভোট দুই লাখ ৪১ হাজার ৮৪৮। এরা সবাই জামানত হারাবেন।
নওগাঁ-৫ (সদর) আসনে তিনজন প্রার্থী জামানত হারাবেন। জাতীয় পার্টির মো: আনোয়ার হোসেন (লাঙ্গল) পেয়েছেন দুই হাজার ১৭৬ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের মো: আব্দুর রহমান (হাতপাখা) চার হাজার ১০১ ভোট, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির শফিকুল ইসলাম (কাস্তে) ৭৪১ ভোট পেয়েছেন। ১১৮টি কেন্দ্রে প্রদত্ত ভোট দুই লাখ ৪৬ হাজার ৬৯৭। এরা সবাই জামানত হারাবেন।
নওগাঁ-৬ (রানীনগর-আত্রাই) আসনে তিনজন প্রার্থী জামানত হারাবেন। বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির (মোটরসাইকেল) পেয়েছেন ১৯ হাজার ৬৩৮ ভোট, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির আতিকুর রহমান রতন মোল্লা (হাতি) পেয়েছেন ৫৫৫ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের মো: রফিকুল ইসলাম (হাতপাখা) এক হাজার ৮৩৩ ভোট পেয়েছেন। ১১৫টি কেন্দ্রে প্রদত্ত ভোট দুই লাখ ৩২ হাজার ৯২৩। এক-অষ্টমাংশ ভোট না পাওয়ায় তারা জামানত হারাবেন।



