এক্সিম ব্যাংক থেকে প্রশাসক প্রত্যাহার সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে কার্যক্রম

আগস্টের মধ্যেই বাকি চার ব্যাংক থেকেও প্রশাসক সরানোর পরিকল্পনা

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

এক্সিম ব্যাংক থেকে প্রশাসক ও তার প্রতিনিধিদের প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে ব্যাংকটির কার্যক্রম পরিচালিত হবে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে’র পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের এমডি ও চেয়ারম্যানকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের পর বৃহস্পতিবার এক্সিম ব্যাংকে এসংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠির মাধ্যমে ব্যাংকটিতে দায়িত্ব পালনকারী প্রশাসক শওকাতুল আলম এবং তার প্রতিনিধিদের প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এক্সিম ব্যাংকের পর আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে একীভূত হওয়া বাকি চারটি ব্যাংক-সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক থেকেও প্রশাসকদের প্রত্যাহার করা হবে। এরপর পাঁচটি ব্যাংকের সব কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের একীভূত ব্যবস্থাপনার আওতায় পরিচালিত হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেশের ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং দীর্ঘদিনের তারল্য ও সুশাসন সঙ্কট মোকাবেলার অংশ হিসেবে পাঁচটি দুর্বল ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করা হয়। একীভূতকরণের সিদ্ধান্তের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করা হয় এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের অপসারণ করা হয়। পরবর্তীতে ব্যাংকগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রম নির্বিঘœ রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রশাসক নিয়োগ দেয়।

ব্যাংকিং খাতের সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত জুনে সরকার কাজী শায়রুল হাসানকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এবং আবেদুর রহমান শিকদারকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়। নতুন পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই একীভূত ব্যবস্থাপনা কাঠামো কার্যকর করার উদ্যোগ নেয়া হয়। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এখন পর্যায়ক্রমে প্রশাসকদের দায়িত্ব প্রত্যাহার করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, নতুন পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা দল এখন কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা অর্জন করেছে। ফলে পৃথকভাবে প্রশাসক রেখে কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা কমে এসেছে। প্রশাসক প্রত্যাহারের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আরো দ্রুত হবে এবং একীভূত ব্যাংকের প্রশাসনিক কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়বে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসক নিয়োগ ছিল একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা। একীভূতকরণের শুরুতে ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম সচল রাখা, গ্রাহকদের আস্থা ধরে রাখা এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় প্রশাসকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এখন সেই ধাপ শেষ করে স্থায়ী ব্যবস্থাপনার হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হচ্ছে, যা পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অগ্রগতি নির্দেশ করে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু প্রশাসক প্রত্যাহার করলেই চ্যালেঞ্জ শেষ হবে না। একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, শাখা পরিচালনা, খেলাপি ঋণ আদায়, তারল্য সঙ্কট মোকাবেলা এবং গ্রাহকসেবা সব ক্ষেত্রেই কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে আমানতকারীদের আস্থা ধরে রাখা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে নতুন পরিচালনা পর্ষদের ওপর বড় দায়িত্ব বর্তাবে। ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, একীভূত ব্যবস্থাপনার অধীনে পাঁচটি ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালিত হলে ব্যয় সাশ্রয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণে গতি এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি মূলধন ও তারল্য ব্যবস্থাপনাও আরো কার্যকর করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী আগস্টের মধ্যে বাকি চারটি ব্যাংক থেকেও প্রশাসক প্রত্যাহার সম্পন্ন হলে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ একীভূত ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হবে। এরপর নতুন পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে পুনর্গঠিত ব্যাংকটিকে আর্থিকভাবে টেকসই, লাভজনক এবং গ্রাহকবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।