ঘাটাইলে সিএইচসিপির অনিয়মে সেবাবঞ্চিত হাজারো মানুষ

Printed Edition

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদীঘি ইউনিয়নের মালিরচালা কমিউনিটি কিনিকে দায়িত্বে অবহেলা ও নিয়মিত অনুপস্থিতির অভিযোগ উঠেছে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) মুকলেস মিয়ার বিরুদ্ধে। এতে শিশু, বৃদ্ধ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ হাজারো মানুষ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, কমিউনিটি কিনিকে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, পরিবার পরিকল্পনা, টিকাদান কর্মসূচি, প্রাথমিক চিকিৎসা, বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ, জরুরি রোগীকে হাসপাতালে প্রেরণ এবং গর্ভবতী নারীদের স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার কথা। তবে দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের কারণে এসব কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগের ভিত্তিতে টানা দুই কর্মদিবস সরেজমিন দেখা যায়, অফিস চলাকালেও কিনিক তালাবদ্ধ ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দা ও কিনিকের জমিদাতা রাসেল ভূঁইয়া বলেন, সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত সেবা দেয়ার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সপ্তাহে মাত্র এক-দুই দিন অফিস করেন। অফিসে এলেও অল্প সময় অবস্থান করেন। ফলে রোগীরা নিয়মিত সেবা পাচ্ছেন না।

স্থানীয় বাসিন্দা জোৎস্না ভানু অভিযোগ করে বলেন, রোগীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ওষুধ দেয়া হয়। টাকা না দিলে ওষুধ নেই বলে জানানো হয়। তিনি নিজেও দুই দিন ২০ টাকা দিয়ে ওষুধ নিয়েছেন বলে দাবি করেন।

এ ছাড়া স্থানীয় শহিদুল ও সঞ্জয় জানান, কিনিকটি অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকে। প্রতিদিন অনেক বৃদ্ধ ও নারী রোগী এসে সেবা না পেয়েই ফিরে যান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সিএইচসিপি মুকলেস মিয়া বলেন, তিনি নিয়মিত অফিস করেন। শুধু এক দিন অনুপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি চাকরিতে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকার কথাও উল্লেখ করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহে ছয় দিন সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত কমিউনিটি কিনিক খোলা রাখার নিয়ম রয়েছে। এখানে ঠাণ্ডা, জ্বর, ডায়রিয়া, আমাশয়, গ্যাস্ট্রিক, অ্যালার্জি ও জন্মনিয়ন্ত্রণসহ ২৭ ধরনের ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়।

ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু নয়িম মোহাম্মদ সোহেল বলেন, মুকলেস মিয়ার বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিনিকে অনুপস্থিত থাকার ঘটনায় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ দিকে স্থানীয়দের দাবি, অনিয়ম বন্ধ করে কমিউনিটি কিনিকের নিয়মিত কার্যক্রম নিশ্চিত করা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হোক, যাতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী কাক্সিক্ষত স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে।