আশিকুর রহমান
একটা সময় হ্যারি কেনকে দেখে অনেকেই ভাবতেন, তিনি হয়তো একজন গোলকিপার হবেন। অথচ সেই ছেলেটিই আজ ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার। তার শৈশবের কোচ, সাবেক প্রশিক্ষক ও সতীর্থদের স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে আত্মবিশ্বাস, কঠোর পরিশ্রম এবং অবিশ্বাস্য মানসিক দৃঢ়তায় গড়া এক অনন্য ক্যারিয়ারের গল্প।
মাত্র ছয় বছর বয়সে স্থানীয় ক্ল¬াব রিজওয়ে রোভার্সে প্রথম অনুশীলনে কোচ ডেভ ব্রিকনেল যখন জানতে চেয়েছিলেন, গোলকিপার হতে কে আগ্রহী, তখন সবার আগে হাত তুলেছিলেন ছোট্ট হ্যারি কেন। গোলপোস্টের নিচেও তিনি দারুণ পারফর্ম করেছিলেন। তবে অভিভাবকরা কোচকে জানান, মাঠের খেলোয়াড় হিসেবেই কেনের প্রতিভা আরো বেশি। এর পর থেকেই শুরু হয় তার স্ট্রাইকার হয়ে ওঠার যাত্রা।
শৈশবে প্রথম মৌসুমেই ৪০টির বেশি গোল করেন কেন। তার পারফরম্যান্স নজরে আসে আর্সেনালের। সেখানে মাঠের খেলোয়াড় হওয়ার পাশাপাশি গোলকিপিংয়েরও বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন তিনি।
তবে সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না। আর্সেনাল তাকে ছেড়ে দেয়, পরে টটেনহ্যামও একবার বাদ দেয়। ওয়াটফোর্ডে সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে টটেনহ্যামের বিপক্ষে গোল করার পর আবারো তাকে দলে ফিরিয়ে আনা হয়।
শৈশবের কোচ ব্রিকনেল বলেন, ‘হ্যারির সবচেয়ে বড় গুণ ছিল মানসিক দৃঢ়তা। একটি সুযোগ নষ্ট করলে সে কখনো ভেঙে পড়ত না। তার বিশ্বাস ছিল, সামনে আরো সুযোগ আসবে।’
২০১৩ সালে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে খেললেও তখন কেনকে ভবিষ্যতের সুপারস্টার হিসেবে খুব কম মানুষই দেখেছিলেন। দলের কোচ পিটার টেলর বলেন, ‘সে খুবই ভদ্র, আত্মবিশ্বাসী এবং পরিশ্রমী ছিল। তবে সে যে একদিন এমন ক্যারিয়ার গড়বে, তখন তা কল্পনাও করিনি।’
পরবর্তী মৌসুমে টিম শেরউডের অধীনে টটেনহ্যামের মূল দলে সুযোগ পান কেন। এরপর মাউরিসিও পোচেত্তিনোর অধীনে তার ক্যারিয়ারে আসে আমূল পরিবর্তন। শুরুতে পোচেত্তিনো তার খেলার ধরন নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না। তিনি কেনকে আরো ফিট হতে, বেশি দৌড়াতে এবং আধুনিক ফুটবলের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে বলেন।
ইংল্যান্ডের সাবেক কোচ গ্যারেথ সাউথগেটের সময় জাতীয় দলের মূল ভরসা হয়ে ওঠেন কেন। স্ট্রাইকার কোচ অ্যালান রাসেল বলেন, ‘হ্যারি খুব শান্ত স্বভাবের; কিন্তু ভেতরে অসাধারণ দৃঢ়তা রয়েছে। কোনো কিছুই তাকে লক্ষ্য থেকে সরাতে পারে না। সে ভালো মানুষ; কিন্তু মাঠে গোল করার ক্ষেত্রে নির্মম।’
চলতি বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন কেন। ছয় গোল করে তিনি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন এবং ২০১৮ সালের নিজের গোলসংখ্যারও সমতা এনেছেন।
অ্যালান রাসেলের বিশ্বাস, বয়স বাড়লেও কেনের সেরাটা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। তার ভাষায়, ‘সে এখন নিজের শক্তি ও অভিজ্ঞতা আগের তুলনায় ভালোভাবে ব্যবহার করতে শিখেছে। তাই ভবিষ্যতে ২০৩০ বিশ্বকাপেও তাকে খেলতে দেখলে আমি মোটেও অবাক হব না।



