ঘুষের বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের এনআইডি দেয়ার অভিযোগ

Printed Edition

আলীকদম (বান্দরবান) সংবাদদাতা

টাকার বিনিময়ে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশী নাগরিকত্ব ও ভোটার কার্ড দেয়ার গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধিরা বহাল তবিয়তে রয়েছেন। দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা বিঘিœতকারী এই অপরাধের তদন্ত শেষ হয়েছে এক বছর আগে। জেলা প্রশাসনের শাস্তির সুপারিশ সত্ত্বেও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব দফতরে আটকে রয়েছে ফাইলটি।

২০২৫ সালের এপ্রিলে আলীকদমে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচির সময় গণমাধ্যমে ফাঁস হয় চাঞ্চল্যকর তথ্য- মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশী ভোটার করার চেষ্টা। বিষয়টি আমলে নিয়ে উপজেলা প্রশাসন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।

সরজমিন অনুসন্ধান, নথিপত্র যাচাই ও স্থানীয়দের সাক্ষ্যগ্রহণে বেরিয়ে আসে উদ্বেগজনক চিত্র। অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধিদের দেয়া প্রত্যয়নপত্র ব্যবহার করে অসংখ্য রোহিঙ্গা বাংলাদেশী হিসেবে নিবন্ধিত হয়। ভুয়া ঠিকানা, বাবার নামের বদলে শ্বশুরের নাম, এমনকি মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়েও তৈরি করা হয়েছে এসব নথি। স্থানীয়দের দাবি, জনপ্রতি ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে পরিচালিত হয়েছে এই জালিয়াতি সিন্ডিকেট।

তদন্ত প্রতিবেদনে চারজন প্রতিনিধির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন, আলীকদম সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন ও সদস্য সন্তোষ কান্তি দাশ, মোহাম্মদ জাকের হোসেন এবং আব্দুল মতিন।

গত বছরের ১৭ জুন তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা পড়ে। তৎকালীন জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি ২০ জুলাই স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশসহ ফাইল মন্ত্রণালয়ে পাঠান। কিন্তু দীর্ঘ এক বছরেও নেয়া হয়নি কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ।

জানা গেছে, ২০১৩ সালে আলীকদমে কর্মরত এক ইউএনও পদোন্নতিপ্রাপ্ত হয়ে এখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে থাকায় তার হস্তক্ষেপে ফাইলটি আটকে রয়েছে।

এ দিকে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য সন্তোষ কান্তি দাশ বলেন, ‘আমি আগের সদস্যের রেখে যাওয়া কাগজে স্বাক্ষর করেছি মাত্র। নতুন কোনো রোহিঙ্গাকে ভোটার করিনি।’ চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন দাবি করেন, ‘১৯৮০ সালের দিকে যারা ভোটার হয়েছেন, তাদের বাদ দেয়ার সুযোগ নেই।’ তবে ফাইল আটকে রাখার বিষয়ে কোনো সদুত্তর দেননি তিনি।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জিয়াউর রহমান জানান, তারা বিষয়টি জানেন। দ্রুত প্রতিবেদন পাঠাতে জেলা প্রশাসককে চিঠি দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।