নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে (ডিএনসিসি) একটি দুর্নীতিমুক্ত, আধুনিক ও জনবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ‘নাগরিক সেবা অ্যাপ’ উদ্বোধন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বারিধারায় এই ডিজিটাল সেবার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, অপরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে ডিএনসিসিতে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়নি। মশার উপদ্রব, জলাবদ্ধতা, যানজট ও রাস্তার খানাখন্দে নগরবাসী আজ দিশেহারা। একটি দায়িত্বশীল দল হিসেবে আমরা ঘরে বসে থাকতে পারি না। এই অ্যাপের মাধ্যমে নগরবাসী তাদের সমস্যা সরাসরি আমাদের জানাতে পারবেন এবং আমরা তা সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
জামায়াত নেতা ডিএনসিসি এলাকায় তাদের পরিচালিত বিভিন্ন সেবামূলক কাজের বিবরণ তুলে ধরে বলেন, প্রায় অর্ধশত হাসপাতালের সাথে চুক্তির মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং ১০টি আধুনিক অ্যাম্বুলেন্সের সার্বণিক সেবা। বেকারত্ব দূরীকরণে ১০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত জাকাতভিত্তিক ‘কর্জে হাসানা’ প্রদান। ডিএনসিসি এলাকার চারটি সংসদীয় আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন এবং শরিক দল থেকে একজন জয়ী হয়েছেন।
সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র করে আমাদের নিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে, যা সাবেক একজন উপদেষ্টার বক্তব্যেই প্রমাণিত। আগামী দিনে ডিএনসিসির মেয়রের দায়িত্ব এমন একজনকে নিতে হবে, যিনি রাত জেগে নগরী পাহারা দেবেন এবং জনগণের জানমালের অতন্ত্র প্রহরী হিসেবে কাজ করবেন।
তিনি আরো বলেন, জামায়াত কোনো রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষের জন্য নয়; বরং দেশকে একটি কল্যাণরাষ্ট্রে পরিণত করতে কাজ করে যাচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ‘ভোট বিপ্লব’ হলেও যারা ষড়যন্ত্র করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আদর্শিক লড়াই অব্যাহত থাকবে।
অ্যাপ উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দিন মোল্লা ও মুহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন, ভাটারা থানা আমির অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম, বসুন্ধরা থানা আমির মো: আবুল বাসার, যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি মুহাম্মদ মঈদ উদ্দিন প্রমুখ।



