উজিরপুর (বরিশাল) সংবাদদাতা
মানুষের যোগাযোগ সহজ করতে কোটি টাকা ব্যয়ে ফেরি পন্টুন ও গ্যাংওয়ে স্থাপন করা হয়েছিল বরিশালের উজিরপুরে সন্ধ্যা নদীতে। কিন্তু স্থাপনের পর কেটে গেছে কয়েক বছর, একদিনের জন্যও চালু হয়নি ফেরি সার্ভিস। ফলে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকা ফেরিতে মরিচা ধরছে। পানিতে থাকা পন্টুন ও গ্যাংওয়ের বিভিন্ন অংশেও দেখা দিয়েছে ক্ষয়। সরকারি অর্থে তৈরি অবকাঠামো এখন মানুষের কাজে আসার আগেই নষ্ট হওয়ার পথে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা সদরের সাথে গুঠিয়া ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকার যোগাযোগ সহজ করতে ২০২২ সালে সন্ধ্যা নদীতে ফেরি সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়। এ জন্য দু’টি ইউটিলিটি টাইপ ফেরি ও পন্টুন স্থাপন করা হয়। ফেরি চালু হলে স্থানীয় মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি উজিরপুরের সাথে বানারীপাড়া, ঝালকাঠি ও পিরোজপুরের যোগাযোগে সময় ও দুর্ভোগ কমার কথা ছিল। তবে নদীভাঙনের কারণে ফেরিঘাট ও সংযোগস্থলের পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় সার্ভিস চালু করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে দীর্ঘ দিন পড়ে থাকায় ফেরি, পন্টুন ও গ্যাংওয়ের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, সন্ধ্যা নদীর তীরে পড়ে থাকা ফেরির বিভিন্ন অংশে মরিচার দাগ। দীর্ঘ দিন ব্যবহার না হওয়ায় ফেরির যন্ত্রাংশ অযতেœ পড়ে আছে। পানির মধ্যে থাকা পন্টুনের অংশে ক্ষয়ের চিহ্ন রয়েছে। গ্যাংওয়ের বিভিন্ন অংশেও দেখা গেছে অযতেœর ছাপ। কোথাও কোথাও আগাছা ও ময়লা-আবর্জনা জমে আছে। নদীভাঙনের অজুহাতে বছরের পর বছর পড়ে থেকে সরকারি সম্পদ নষ্ট হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অর্থে ফেরি ও পন্টুন স্থাপন করা হলেও একদিনও চালু না হওয়ায় এর সুফল পাচ্ছেন না তারা। বরং অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে সরকারি সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা বিপ্লব মোল্লা বলেন, ফেরি-পন্টুন স্থাপনের পর একদিনও ফেরি চলতে দেখিনি। দীর্ঘ দিন ধরে এগুলো পড়ে আছে। এভাবে পড়ে থাকলে সরকারি সম্পদ নষ্ট হবে। দ্রুত ফেরি চালুর ব্যবস্থা করা দরকার।
পথচারী খলিল সিকদার বলেন, সন্ধ্যা নদী পার হতে আমাদের অনেক সময় ও ভোগান্তি পোহাতে হয়। এত টাকা খরচ করে ফেরি এনে যদি ব্যবহারই না করা হয়, তাহলে এর সুফল মানুষ পাবে কিভাবে? আরেক বাসিন্দা নুর ইসলাম হালদার বলেন, এগুলো দ্রুত পরীক্ষা করে যেগুলো সচল করা সম্ভব, তা চালু করা উচিত। আর যেগুলো ব্যবহার করা যাবে না, সেগুলো অন্যত্র সরিয়ে সরকারি নিয়মে ব্যবস্থা নেয়া দরকার।
বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: নাজমুল ইসলাম বলেন, নদীভাঙনের কারণে ফেরিঘাট ও সংযোগস্থলের পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় ফেরি সার্ভিস চালু করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। উজিরপুর ইউএনও মো: আলী সুজা বলেন, ফেরি ও পন্টুনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। সরকারি অর্থে স্থাপিত এসব অবকাঠামো যাতে পড়ে থেকে নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরের সাথে কথা বলা হবে।



