বিশেষ সংবাদদাতা, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম বন্দরে আবারো জাহাজ দুর্ঘটনা ঘটেছে। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে দুই বিদেশী জাহাজের সংঘর্ষের ঘটনায় চট্টগ্রাম বন্দরের নোঙর এলাকা ও চ্যানেলে জাহাজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। গত ৪ আগষ্টও মাল্টার পতাকাবাহী একটি কনটেইনার জাহাজ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লাল বয়ার সাথে ধাক্কা খায় এবং নেভাল একাডেমিসংলগ্ন চরে আটকা পড়ে। মাত্র ১১ দিনে পাঁচ বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজ দুর্ঘটনায় পতিত হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণœ হওয়ার আশঙ্কা করছেন মেরিটাইম সংশ্লিষ্টরা।
বন্দর সূত্র জানিয়েেেছ, শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বহির্নোঙরের আলফা অ্যাঙ্করেজে প্রবল স্রোতের কারণে প্রবেশকারী বাল্ক ক্যারিয়ার লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী এমভি আনাসসা (আইএমও: ৯৫৯০৯২৯, স্ল্যাগ কার্গো বহনকারী, ২১ জন ক্রু) নোঙর করে রাখা বাংলাদেশী পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার এমভি জাহাব জাহান (আইএমও: ৯২১৭৬৮২) জাহাজের সামনের অংশে ধাক্কা দেয়। ঘটনার পরপরই উভয় জাহাজ নিরাপদে আলাদা হয়ে নোঙর করে এবং বর্তমানে নৌ চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।
এদিকে গত শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দর বহির্নোঙরের আলফা এ্যানকরেজে প্রায় ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলবাহী এমটি সি স্পাইক নামের একটি ওয়েল ট্যাংকারের সাথে নোঙর করে থাকা এমভি সান শাইন নামের আরেকটি জাহাজের (বাল্ক ক্যারিয়ার) সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে তেলবাহী জাহাজটির ইঞ্জিন করে এক পাশে প্রায় এক বর্গমিটার ফাটল সৃষ্টি হয়ে পানি ঢুকে যায়। তবে ডিজেল রাখা কার্গো ট্যাংকগুলো অক্ষত থাকায় বড় ধরনের তেল দূষণ থেকে রক্ষা পেয়েছে বঙ্গোপসাগর। এর আগে গত ৪ আগষ্টও মাল্টার পতাকাবাহী একটি কনটেইনার জাহাজ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লাল বয়ার সাথে ধাক্কা খায় এবং নেভাল একাডেমি সংলগ্ন চরে আটকা পড়ে। সে সময় বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পায় চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেল।
মেরিটাইম সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিরাপত্তা বলয় সৃষ্টির ব্যর্থতায় এসব দুর্ঘটনা ঘটছে। সিকিউরিটি ম্যানেজমেন্ট কমিটি-এসএমসি অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্তরা যথাযথভাবে কাজ করছেন কি না, পতেঙ্গা পয়েন্টে ভিটিএমআইএস স্টেশনে যথাযথ ওয়াচ কিপিং করলে তো জাহাজ ব্যবস্থাপনা কোনো কঠিন বিষয় নয়। সূত্র বলছে, বহির্নোঙরে ৬০/৬৫’র মতো জাহাজ থাকে, প্রত্যেক জাহাজের আধা মাইল বা এক মাইলের ভিতরে অন্য কোনো জাহাজ আসতে পারবে না এমন এমবার্গো দিয়ে ব্যবস্থাপনা করলে এ ধরনের দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে না। তা ছাড়াও যদি কোনো জাহাজ কাছাকাছি চলে আসলে এ্যালার্ম সিস্টেম রাখলে হয়ে যায়। চলতি মাসে সংঘটিত সবগুলো দুর্ঘটনাকেই অব্যবস্থাপনা বলছেন মেরিটাইম সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র বলছে, এ ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকলে নাইরোবি কনভেনশন অনুযায়ী নিরাপদ বন্দরের সূচকে আইএমও’র স্পেশাল মেরারস টু এনহেন্স মেরিটাইম সেইফটি এবং স্পেশাল মেজারস টু এনহেন্স মেরিটাইম সিকিউরিটি। যদি নিরাপদ জাহাজ চলাচল এবং জাহাজের নিরাপদ অবস্থান বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা আইএমবি (ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম ব্যুরো), সিঙ্গাপুরভিত্তিক রিক্যাপ, আইপিএস (ইন্টারন্যাশনাল পোর্ট সিকিউরিটি) এবং ইউএস কোস্টগার্ডের কাছে এসব মেসেজ গেলে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজের ফ্রেইট বাড়তে পারে, সারচার্জ আরোপ হতে পারে। এতে দেশ বিপুল ব্যবসা হারাতে পারে বলেও সূত্র আভাস দিয়েছে।
দুর্ঘটনার পেছনে ব্যবস্থাপনাগত কোনো দুর্বলতা আছে কি না জানতে চাইলে বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামীম নয়া দিগন্তকে বলেন, সবগুলো ঘটনাকে একই সূত্রে যুক্ত করার কোনো যৌক্তিক কারণ আমাদের কাছে আসেনি। প্রত্যেকটি ঘটনার পৃথক কারণ আছে এবং তদন্ত করে দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত করে যাতে ভবিষ্যতে ওই ধরনের দুর্ঘটনা আর না ঘটে আমরা সে পদক্ষেপ নেবো।



