আদমদীঘি (বগুড়া) সংবাদদাতা
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার রক্তদহ বিলে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী বা রিং জাল ব্যবহার করে অবাধে মাছ শিকারের ফলে দেশীয় মাছ ও জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিলজুড়ে এ ধরনের জাল ব্যবহার হলেও কার্যকর নজরদারির অভাবে পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হচ্ছে না। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আদমদীঘির প্রসাদখালি, কাশিমিলা, দমদমা, কদমা, করজবাড়ি, রামপুরা, ছাতনী ও ঢেকড়াসহ বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি নওগাঁর রানীনগর উপজেলার কয়েকটি গ্রামের জেলে ও সাধারণ মানুষ রিং জাল ব্যবহার করে মাছ ধরছেন। বর্ষা মৌসুমে এ জালের ব্যবহার আরো বেড়ে যায়।
মৎস্যসম্পদ সংশ্লিষ্টদের মতে, রিং জালে বড় মাছের পাশাপাশি মাছের ডিম, রেণু ও বিভিন্ন জলজ প্রাণীও আটকা পড়ে। ফলে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। একসময় মাছে সমৃদ্ধ রক্তদহ বিল এবং এর সাথে সংযুক্ত ২২টি শাখা খালে এখন মাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।
স্থানীয় জেলেরা জানান, কিছু অসাধু ব্যক্তি নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করায় প্রচলিত পদ্ধতিতে মাছ ধরা জেলেরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। অনেকের জালে মাছ না পড়ায় তারা পেশা পরিবর্তন করতেও বাধ্য হচ্ছেন। উপজেলার প্রায় এক হাজার জেলে পরিবার সরাসরি এ বিলের মাছের ওপর নির্ভরশীল।
এদিকে আদমদীঘি, রানীনগর ও আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রকাশ্যে রিং জাল বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।
সান্তাহার ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দীন বলেন, ‘নিষিদ্ধ রিং জালের ব্যবহার বন্ধ না হলে একসময় রক্তদহ বিল থেকে দেশীয় মাছ বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।’
আদমদীঘি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাহিদ হোসেন বলেন, ‘নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু রিং জাল জব্দ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের জরিমানা ও কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে।’



