আলজাজিরা
হোয়াইট হাউজ আবারো জানিয়েছে, তারা পশ্চিমতীর ইসরাইলের সাথে যুক্ত বা দখলভুক্ত করার বিরোধী। একই সাথে অঞ্চলটিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা যে সিদ্ধান্তগুলো অনুমোদন করেছে, সেগুলোর মাধ্যমে তারা পশ্চিমতীরে নিয়ন্ত্রণ আরো বাড়াতে চায়। এই এলাকাগুলোই ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনিদের সম্ভাব্য রাষ্ট্রের অংশ হবে বলে তারা আশা করে। সেই প্রেক্ষাপটেই হোয়াইট হাউজ এই বিবৃতি দিয়েছে।
হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তার নামে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেছেন, তিনি পশ্চিমতীর ইসরাইলের সাথে যুক্ত করার পক্ষে নন।’ এই মন্তব্যটি সাংবাদিকদের পাঠানো হয়। তারা ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিলেন।
ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘পশ্চিমতীরে স্থিতিশীলতা থাকলে ইসরাইল নিরাপদ থাকে। একই সাথে এটি এই প্রশাসনের আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।’ তবে বিবৃতিতে ইসরাইলের অনুমোদিত পদক্ষেপগুলোর সরাসরি নিন্দা করা হয়নি। এমনকি সেগুলো নিয়ে স্পষ্ট কোনো মন্তব্যও নেই। অথচ এসব পদক্ষেপ অসলো চুক্তির লঙ্ঘন। কারণ, এর মাধ্যমে পশ্চিমতীরের যেসব এলাকা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা, সেখানে ইসরাইলের প্রশাসনিক ক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।
তবে বিবৃতিতে ইসরাইলি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সরকারের কাছে কোনো উদ্বেগ জানিয়েছে কি না তা উল্লেখ করা হয়নি। এর আগেও পশ্চিমতীরে বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে ইসরাইলের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের সময় যুক্তরাষ্ট্র একই ধরনের অস্পষ্ট বিবৃতি দিয়েছে। তখনো তারা শুধু স্থিতিশীলতার আহ্বান জানিয়েছিল।
দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় ফিরে আসার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তিনি পশ্চিমতীর ইসরাইলের সাথে যুক্ত করার বিষয়ে সমর্থন দেয়ার কথা ভাবছেন। কিন্তু ইসরাইল যখন সে পথে এগোতে শুরু করে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের আরব মিত্ররা উদ্বেগ প্রকাশ করে। তারা জানায়, এতে গাজা যুদ্ধ-পরবর্তী ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করার আগ্রহ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কারণ, এতে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে যাবে।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প গত সেপ্টেম্বর ঘোষণা দেন, তিনি ইসরাইলকে পশ্চিমতীর দখল বা সংযুক্ত করতে ‘অনুমতি দেবেন না।’ তবু পরের মাসে ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেট প্রতীকী দু’টি প্রস্তাব গ্রহণ করে। এতে পশ্চিমতীর সংযুক্ত করার প্রতি সমর্থন জানানো হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন ক্ষুব্ধ হয়। বিশেষ করে তখন দেশটিতে সফররত যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ছিলেন সবচেয়ে বেশি বিরক্ত। এরপরও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরাইল একের পর এক পদক্ষেপ নিয়েছে। নজরদারি সংস্থাগুলো বলছে, এসব পদক্ষেপ কার্যত দখল বা সংযুক্তিকরণেরই সমান। তবে জেরুজালেম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পশ্চিমতীর সংযুক্ত করার ঘোষণা দেয়নি। গত জানুয়ারির শেষ দিকে ট্রাম্পের সাথে বৈঠকের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান নেতানিয়াহু। তখন ট্রাম্পের সহযোগীরা পশ্চিমতীরের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানান। তারা বিশেষভাবে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা, বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কর রাজস্বের কয়েক বিলিয়ন ডলার আটকে রাখার বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে। ওই অর্থ আটকে রাখার ফলে রামাল্লাহভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ প্রায় ধসে পড়ার মুখে। তখন এক মার্কিন কর্মকর্তা দ্য টাইমস অব ইসরাইলকে এ তথ্য জানান।
সে সময় ট্রাম্প প্রকাশ্যে স্বীকার করেছিলেন, পশ্চিমতীর নিয়ে নেতানিয়াহুর সাথে তার মতভেদ রয়েছে। তবে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি। বরং তিনি জোর দিয়ে বলেন, শেষ পর্যন্ত ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী ‘সঠিক কাজটিই করবেন।’ এই দুই নেতা আবারো বুধবার বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। তবে বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় থাকবে ইরান। তবু গাজার প্রসঙ্গও আলোচনায় আসতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, পশ্চিমতীরে উত্তেজনা বাড়লে গাজা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের প্রচেষ্টা ভেস্তে যেতে পারে।



