নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের বিভিন্ন কারাগারে কারাবন্দী মায়েদের সাথে বর্তমানে কত শিশু রয়েছে, তাদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা, বয়স ও সার্বিক অবস্থান-সংবলিত বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী দুই মাসের মধ্যে কারা মহাপরিদর্শককে (আইজি প্রিজনস) এই প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গতকাল সোমবার বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো: জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন এই আদেশ দেন।
কারাগারে মায়েদের সাথে অবস্থানরত ওই শিশুদের যথাযথ নিরাপত্তা, কল্যাণ ও শারীরিক-মানসিক বিকাশের পরিবেশ নিশ্চিতে কেন সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। স্বরাষ্ট্র সচিব, সমাজকল্যাণ সচিব ও কারা মহাপরিদর্শকসহ পাঁচ বিবাদিকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
একটি জাতীয় দৈনিকে গত ৮ মে ‘কারাগারে বিপন্ন শৈশব’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন ও এ সংক্রান্ত অভিমত যুক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ গত সপ্তাহে জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন। আদালতে রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। শুনানিতে তার সাথে ছিলেন আইনজীবী ফারজানা আক্তার ও হোসনে আরা বেগম। অন্য দিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো: ফারুক হোসেন।
রিট আবেদনে যুক্ত করা ওই প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, দেশের ৭৪টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে (গত ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যমতে) ২৯৯টি শিশু তাদের মায়েদের সাথে অবস্থান করছে। এই শিশুদের মধ্যে কন্যাশিশু ১৫৩টি এবং ছেলেশিশু ১৪৬টি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মায়েদের সাথে কারাগারে থাকা এই শিশুদের মায়েদের একটি বড় অংশই মাদক মামলার আসামি। আসামিদের কেউ কেউ ইতোমধ্যে সাজা খাটছেন, আবার কারো কারো মামলা বর্তমানে বিচারধীন পর্যায়ে রয়েছে। কারাবন্দী মায়েদের অপরাধের কারণে নিষ্পাপ শিশুদের এই অবরুদ্ধ জীবন ও তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই আদালত গতকাল সোমবার এই আদেশ প্রদান করেন।



