গুমকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই : মুসলিম লীগ

Printed Edition

রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ উল্লেখ করে গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে মারাত্মক অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বাংলাদেশ মুসলিম লীগের নেতারা। তারা বলেছেন, রাজনীতিতে মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু গুমের মতো ঘটনাকে কোনোভাবেই হালকা করে দেখার সুযোগ নেই।

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ মুসলিম লীগের স্থায়ী কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন আবুড়ীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তি কেবল নিজেই নির্যাতিত হন না, তার পুরো পরিবারকে প্রতিদিন চরম অনিশ্চয়তা ও অপেক্ষার যন্ত্রণায় দিন কাটাতে হয়। ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমসহ বিগত সরকারের আমলে দীর্ঘ দিন ধরে নিখোঁজ ব্যক্তিদের প্রসঙ্গ টেনে নেতারা বলেন, বছরের পর বছর পার হলেও তাদের স্বজনদের ফেরার অপেক্ষার অবসান ঘটেনি। রাষ্ট্রকে এই স্বজনদের কান্না ও দীর্ঘ অপেক্ষার জবাব দিতে হবে।

সভায় গুম থেকে ফিরে আসা সালাহউদ্দীন আহমেদ, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) আবদুল্লাহিল আমান আযমীর উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়, তাদের ফেরার মধ্য দিয়ে গুমের ভয়াবহতা ও অন্ধকার বাস্তবতা সবার সামনে স্পষ্ট হয়েছে।

গুমের প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তসাপেক্ষে প্রকৃত তথ্য জাতির সামনে প্রকাশের জোর দাবি জানান মুসলিম লীগ নেতারা। একইসাথে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে যেন রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে কাউকে গুমের শিকার হতে না হয়, তা নিশ্চিত করার তাগিদ দেয়া হয়।

সভায় আরো বক্তব্য দেন- দলের কেন্দ্রীয় নেতা এস আই ইসলাম মিলন, জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, তারেক জমির সজীব, আইনজীবী মোহাম্মদ জসিমউদ্দীন, মহিলা মুসলিম লীগের সভানেত্রী ডা: হাজেরা বেগম, আইনজীবী আবু সাইদ মোল্লা ও খন্দকার জিয়া উদ্দীন। বিজ্ঞপ্তি।