শিবির নেতাকে গুমের পর মুক্তিপণ দাবি পুলিশের অসহযোগিতা

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার অধিক পেরিয়ে গেলেও সন্ধান মেলেনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক জিসান আহম্মেদ প্রধানের। তাকে গুম করার পর অপহরণকারীরা পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করছে বলে জানা গেছে। তবে ঘটনার পর থেকে প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত হতাশাজনক ও রহস্যজনক বলে অভিযোগ করেছে জিসানের পরিবার ও সংগঠন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে জিসান নিখোঁজ রয়েছেন। সারা রাত চরম উৎকণ্ঠায় কাটানোর পর গতকাল শুক্রবার ভোরের পরপরই (ফজরের পর) তার ভাইয়েরা দাউদকান্দি থানায় যান। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর সকাল ৯টায় পুলিশের দেখা মেলে এবং একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতেই সকাল সাড়ে ৯টা বেজে যায়। শুরু থেকেই পুলিশ ওই ঘটনায় চরম কালক্ষেপণ ও উদাসীনতা দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবার জানিয়েছে, অপরাধী চক্র জিসানকে গুম করার পর পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করেছে। এমনকি ফোনে জিসানের কণ্ঠও শোনানো হয়েছে। ফোনে জিসান আর্তনাদ করে বলেন, ‘আমাকে সারারাত পেটানো হয়েছে, এখন মেরে ফেলতে চায়।’ সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, যে ফোন নাম্বারটি ব্যবহার করে মুক্তিপণ চাওয়া হচ্ছে, সেটি এখনো সচল রয়েছে। প্রযুক্তিগত সব সুবিধা থাকা সত্ত্বেও অপরাধীদের ট্র্যাক বা জিসানকে উদ্ধারে পুলিশ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। পুলিশ উল্টো দায়সারা বক্তব্য দিয়ে দাবি করছে, কোনো একটি চক্র মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে তাকে অপহরণ করেছে।

স্থানীয় দলীয় কর্মীদের ভাষ্য মতে, জিসান দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এবং সংশ্লিষ্ট থানার ওসির বিতর্কিত ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে আসছিলেন। তাদের আশঙ্কা, সেই রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা থেকেই পরিকল্পিতভাবে জিসানকে তুলে নিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে এবং এর পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হাত থাকতে পারে।

প্রশাসনের এই গাফিলতির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্রশিবির। অবিলম্বে জিসান আহম্মেদ প্রধানকে অক্ষত ও নিরাপদ অবস্থায় উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। এ দিকে পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকার প্রতিবাদে এবং জিসানের সন্ধানের দাবিতে দাউদকান্দিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রশিবির কুমিল্লা জেলা উত্তর শাখা।