চট্টগ্রাম ব্যুরো
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রাম মহানগরী ও দক্ষিণ চট্টগ্রামে বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণে ব্যস্ত দিন পার করেছেন।
মন্ত্রী সকালে নগরীর পতেঙ্গা এলাকার মাইজপাড়া মাহমুদুন নবী চৌধুরী স্কুলের সামনে, হাদীপাড়া এবং খেজুরতলায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। পতেঙ্গায় ত্রাণ বিতরণকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের বন্যায় কয়েক লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এরই মধ্যে বেশির ভাগ মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। অন্যদেরও ত্রাণের আওতায় আনা হচ্ছে। ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের কাজও শুরু হয়েছে। সেখানে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে চাল, রান্না করা খাবার, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করেন।
দুপুরে মন্ত্রী সাতকানিয়া উপজেলায় ত্রাণ বিতরণ করেন। পরে লোহাগাড়ার আধুননগর ইউনিয়নে ডলু খালের ভাঙন পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ করেন। এরপর তিনি সাতকানিয়ার নলুয়া ইউনিয়নের বোর্ড অফিসের সামনে ত্রাণ বিতরণ করেন। এ ছাড়া বিকেলে তিনি বাঁশখালী উপজেলার সরল ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।
ত্রাণ বিতরণের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় এসব অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, বন্যার্তদের ভয় বা নিজেদের অসহায় ভাবার কিছু নেই। সরকার তাদের পাশে আছে। আমরা শুধু ত্রাণ দিয়ে কাজ শেষ করব না বরং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে সেক্টর-ভিত্তিক পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করব। ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামতে সহায়তা, ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষি, প্রান্তিক চাষি, সাধারণ দিন মজুর, খেটে খাওয়া মানুষ-সরকার সবাইকে প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দিয়ে যাবে। তিনি বলেন, রাস্তাঘাট, কৃষি খাত, মৎস্য উপখাতসহ সব খাতের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ শেষ হলে দ্রুতই মেরামত কাজ শুরু হবে। বন্যার কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোথাও রেললাইন, কোথাও অপরিকল্পিত স্থাপনা কিংবা পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা কারণ হতে পারে। সব বিষয় পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় সাত লাখ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ৪০ হাজার পরিবারকে চাল, ৭৫ হাজার পরিবারকে চাল-ডালসহ শুকনো খাবার এবং ৪০ হাজার পরিবারকে রান্না করা খাবার দেয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, ত্রাণের পাশাপাশি পুনর্বাসন কাজ একসাথে চলবে। ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ির ক্ষেত্রে টিন সরবরাহ করা হবে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বীজ সারসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ দেয়া হবে। তা ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতে স্থানীয় সরকার বিভাগকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন আয়োজিত ভিন্ন ভিন্ন অনুষ্ঠানে চসিক মেয়র ডা: শাহাদাত হোসেন, শাহজাহান চৌধুরী এমপি, মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ এমপি, আবু সুফিয়ান এমপি, এনামুল হক এনাম এমপি, জহিরুল ইসলাম এমপি, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্বর, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাজিমুর রহমান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হেলাল উদ্দিনসহ রাজনৈতিক নেতারা, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা মন্ত্রীর সাথে ছিলেন।
পটিয়া-চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, গতকাল বেলা ১১টার দিকে চন্দনাইশ পৌরসদরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের এমপি জসীম উদ্দীন আহমেদের ব্যবস্থাপনায় ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, যত দিন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কার্যক্রম শেষ না হবে, তত দিন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
পরে ত্রাণ বিতরণ শুরু হলে মঞ্চে বেশি নেতাকর্মী হওয়ায় সভামঞ্চটি ভেঙে একপাশ দেবে যায়। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত হয়নি বলে নিশ্চিত করেন চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আবদুর রহমান।



