আনাদোলু
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মতো মিত্র দেশগুলোর আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় জার্মানির নীরবতা দেশটির নিজস্ব ভাবমূর্তি ও গ্রহণযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণœ করছে। একই সাথে এই অবস্থান বিশ্বজুড়ে নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরো দ্রুত ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে গতকাল সোমবার প্রকাশিত এক বিশেষ রিপোর্টে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।
জার্মানির শীর্ষস্থানীয় শান্তি ও সঙ্ঘাতবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ উদ্যোগে প্রতি বছর ‘পিস রিপোর্ট’ বা শান্তি রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। ২০২৬ সালের এই বার্ষিক রিপোর্টে সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন ক্রমশ যুদ্ধবাজদের মতো আচরণ করছে এবং যুদ্ধকে একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এই প্রবণতার বিরুদ্ধে এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে বিশ্বজুড়ে চলমান সহিংস সঙ্ঘাতগুলো আরো ভয়াবহ রূপ ধারণ করার বড় ঝুঁঁকি রয়েছে। এতে জার্মানির বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে একতরফা মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ, গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধাপরাধ এবং লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরাইলি বিমান হামলার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিতে বার্লিনের দ্বিধাদ্বন্দ্বের বিষয়টি এখানে গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা লিখেছেন যে, জার্মানি বেছে বেছে কিছু দেশের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সমালোচনা করে, কিন্তু অন্য দিকে কৌশলী ভাষার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মতো নিজেদের মিত্রদের নিয়ম লঙ্ঘন সহজে মেনে নেয়। এই দ্বিমুখী আচরণের কারণে বিশ্বমঞ্চে একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে জার্মানি নিজের গ্রহণযোগ্যতা হারানোর বড় ঝুঁঁকিতে রয়েছে। গবেষকেরা বার্লিনের এই নীতিগত অবস্থান অবিলম্বে পরিবর্তনের জন্য জোরালো তাগিদ দিয়েছেন। এতে আরো বলা হয়েছে যে, নিয়মভিত্তিক একটি বিশ্বব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে হলে কোনো আপস করা চলবে না। অপরাধ বা নিয়ম লঙ্ঘন যে দেশই করুক না কেন, সে মিত্র বা শত্রু যা-ই হোক, শুরুতেই তা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হবে এবং প্রকাশ্য আদালতে বা বিশ্বমঞ্চে তার তীব্র নিন্দা জানাতে হবে। তবেই আন্তর্জাতিক আইনের সঠিক মর্যাদা রক্ষা করা সম্ভব।
এই পিস রিপোর্টটি মূলত জার্মানির শীর্ষস্থানীয় চারটি শান্তি ও সঙ্ঘাত গবেষণা ইনস্টিটিউটের যৌথ বার্ষিক প্রকাশনা। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে বন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর কনফ্লিক্ট স্টাডিজ (বিআইসিসি), হামবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর পিস রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি পলিসি (আইএফএসএইচ), ইনস্টিটিউট ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড পিস (আইএনইএফ) এবং লাইবনিজ পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফ্রাঙ্কফুর্ট (পিআরআইএফ)।



