ঝালকাঠি বিএনপি নেতাকর্মীরা দু’ভাগে বিভক্ত

Printed Edition

আতিকুর রহমান ঝালকাঠি

ঝালকাঠি জেলা বিএনপির রাজনীতিতে প্রকাশ্য গ্রুপিং ও নেতৃত্ব নিয়ে তীব্র কোন্দল দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে পৃথক দু’টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে দলীয় কর্মসূচি পালন করায় এই দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এতে জেলা বিএনপিতে দীর্ঘদিনের একচ্ছত্র আধিপত্য ও ক্ষমতার ভারসাম্য বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝালকাঠি রাজনীতির এক মেরুতে রয়েছেন ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল এবং ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো। তাদের সাথে যুক্ত হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। অপর মেরুতে অবস্থান করছেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য জিবা আমিনা খান এবং জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন। মূলত জেলা পরিষদ প্রশাসক নিয়োগ এবং সংরক্ষিত আসনে নতুন এমপি মনোনয়নের পর থেকেই এই ক্ষমতার বলয় তৈরি হয়।

ইতোমধ্যে স্থানীয় এমপিদের কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে বিভিন্ন বরাদ্দ বিতরণ ও প্রতিনিধি নির্বাচন নিয়ে সদর উপজেলা বিএনপিতে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূলের একাংশের দাবি, নতুন এই মেরুকরণের ফলে স্থানীয় এমপিদের রাজনৈতিক প্রভাব জেলা সংস্থায় কিছুটা খর্ব হয়েছে। তবে এমপিদের অনুসারীদের দাবি, পদমর্যাদা ও বড় উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষমতার দিক থেকে এমপিদের অবস্থান এখনো সবার ওপরে।

ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক এজাজ হাসান বলেন, এমপি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক দু’জনই দলের মনোনীত। এটি কোনো অভ্যন্তরীণ কোন্দল নয়, বরং কাজের পরিধিতে দলের মধ্যে একটা ভারসাম্য এসেছে।

জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন জানান, নির্দিষ্ট দিনে জেলা বিএনপির আহ্বায়কের সভাপতিত্বে তারা শাহাদতবার্ষিকীর মূল কর্মসূচি পালন করেছেন। তবে ১ জুনের অপর কর্মসূচিতে তাদের জানানো হয়নি। কোন্দল নিরসন করে সবাইকে নিয়ে জেলার উন্নয়নে মাস্টার প্ল্যান করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।