নিজস্ব প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পাকিস্তানি সাংবাদিক হামিদ মীরকে বাংলাদেশে ভিসা না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে অংশ নেয়ার আমন্ত্রণ পেয়ে তিনি ভিসার জন্য আবেদন করেছিলেন। তবে তার আবেদনটি অনুমোদন করা হয়নি।
নয়া দিগন্তকে পাঠানো এক ই-মেইল বার্তায় হামিদ মীর জানান, তিনি মিডিয়াবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিতে বাংলাদেশে আসার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু ভিসা না পাওয়ায় তার সফরটি বাতিল হয়। পরে বিষয়টি জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে তাকে জানানো হয়, তার জামায়াতে ইসলামীর সাথে সম্পর্ক থাকার অভিযোগ রয়েছে- এমন তথ্যের ভিত্তিতেই আবেদনটি বিবেচনায় নেয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভের (এমআরডিআই) উদ্যোগে ৮ ও ৯ মে ঢাকায় ‘বাংলাদেশ জার্নালিজম ২০২৬’ শীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দুই দিনের এই আয়োজনে দেশী-বিদেশী শতাধিক সাংবাদিক, শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থী অংশ নেন। অনুষ্ঠানে ইউনেস্কোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ছিলেন। প্রথম দিনের সমাপনী পর্বে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও গণমাধ্যমবিষয়ক দায়িত্বশীল পর্যায়ের প্রতিনিধিও অংশ নেন।
সমাপনী আলোচনায় বক্তারা দক্ষিণ এশিয়ায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, রাজনৈতিক চাপ, দলীয় প্রভাব ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে অনেক দেশে সাংবাদিকতা স্বাধীনভাবে বিকশিত হতে পারছে না। এ পরিস্থিতি তথ্যপ্রবাহ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলছে বলেও মত দেন অনেকে।
এ দিকে ভিসা প্রসঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে হামিদ মীর আরো জানান, সম্প্রতি তার একটি ভিডিও বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক কূটনীতি নিয়ে কিছু বিশ্লেষণমূলক মন্তব্য করেছিলেন। তার ধারণা, সেই বক্তব্যের প্রেক্ষাপট থেকেই তার বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ধারণা তৈরি হতে পারে।
তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে ভিসা না দেয়ার কারণ নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা ও আলোচনা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ার সাংবাদিকতা ও কূটনৈতিক পরিবেশে রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার বিষয়টিকে আবারো সামনে এনেছে।



