বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো উচ্চতায় নিয়ে যেতে সরকার আগ্রহী বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। দুই দেশের মধ্যে জনশক্তি রফতানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
গতকাল রোববার সচিবালয়ে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওসমানের সাথে বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের শুরুতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের কথা উল্লেখ করে সফরটি সফল হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন হাইকমিশনার। পরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে বিশেষভাবে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রফতানি ও অনিবন্ধিত শ্রমিকদের নিবন্ধন, বাংলাদেশের প্রকৌশলীদের মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে হাসপাতাল নির্মাণ, বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ এবং খেলাধুলার সামগ্রী উৎপাদনে সহযোগিতার বিষয় উঠে আসে। এ ছাড়া ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানি, নির্মাণ খাত এবং হালাল ফুডসহ বিভিন্ন খাতে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জানান, আগামী ছয় মাসে মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে প্রায় দুই লাখ জনশক্তি নেয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০ হাজার কর্মী বিনা খরচে যাওয়ার সুযোগ পাবেন বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় আট লাখ নিবন্ধিত বাংলাদেশী জনশক্তি রয়েছে। নতুন করে আরো বাংলাদেশী কর্মী মালয়েশিয়ায় পাঠানো এবং সেখানে অবস্থানরত অনিবন্ধিত শ্রমিকদের নিবন্ধনের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে এ কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলে বৈঠকে জানানো হয়। বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো: শহীদুল হাসানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তি।



