প্রথম জয়ের খোঁজে তুরস্ক-প্যারাগুয়ে

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপের ২৩তম আসরে এখন পর্যন্ত জয়ের মুখ দেখেনি তুরস্ক ও প্যারাগুয়ে। নিজেদের প্রথম ম্যাচে ফেবারিট হিসেবে মাঠে নেমেও অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২-০ গোলে হার তার্কিশদের। অপর দিকে বিশ্বকাপের সহআয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৪-১ গোলে পরাজয়ে শুরু হয়েছিল ল্যাটিন আমেরিকার দেশটির। এবারের আসরে দল দু’টি নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথম জয়ের সন্ধানে মাঠে নামবে। সান্তা ক্লারার লেভিস স্টেডিয়ামে দুই দলের জন্যই এই ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আরেকটি হার তাদের নকআউট পর্বের স্বপ্ন প্রায় শেষ করে দেবে। বাংলাদেশ সময় আজ সকাল ৯টায় সান ফ্রান্সিসকোতে মাঠের লড়াইয়ে নামবে দুই দল।

বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘ডি’তে ফেবারিট হিসেবে প্রথম ম্যাচে খেলতে নেমেছিল তুরস্ক। কিন্তু বিশ্বমঞ্চে ফেরার জন্য ২৪ বছর অপেক্ষার পালা শেষ করে ইউরোপীয় দেশটি অপ্রত্যাশিত এক পরাজয়ে হোঁচট দিয়ে মিশন শুরু করে। আর গত ১৬ বছর অপেক্ষার পালা শেষে উদ্বোধনী ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে আরো শোচনীয় অবস্থা ছিল প্যারাগুয়ের। এই পরাজয়কে দলের প্রধান কোচ গুস্তাভো আলফারো ‘অত্যন্ত বেদনাদায়ক শিক্ষা’ বলে অভিহিত করেছেন।

প্রতিকূল ফলাফল সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে বলের দখল নিজেদের কাছে রেখেছিল ভিনসেঞ্জো মন্টেলার দল। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তারা গোল আদায়ে ব্যর্থ হয়। তবে যে দল চারটি গোল হজম করেছে, তাদের বিপক্ষে আবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি কল্পনা করা কঠিন। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের আগে তুরস্ক তাদের শেষ আটটি ম্যাচেই গোল করেছিল। একটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়ার জন্য আর্দা গুলারের একটি জাদুকরি মুহূর্তই যথেষ্ট। তার সাথে আক্রমণভাগে খেলার সম্ভাবনা রয়েছে বারিস আলপার ইলমাজ ও ওরকুন কোকচুর।

২০২৪ সালের ইউরো থেকে শুরু করে মন্তেলার দল প্রতিবারই একটি হারের পর জয় পেয়েছে। তুরস্ক শেষবার টানা দুই ম্যাচে জিততে ব্যর্থ হয়েছিল ২০২৪ সালের জুনে। তুরস্ক তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিল জুভেন্টাসের তারকা কেনান ইলদিজকে ছাড়া। ২১ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় গত সপ্তাহে কাফ মাসলের চোট থেকে সেরে উঠায় বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন। তবে ৪৫ মিনিট খেললেও তাকে পুরোপুরি ফিট মনে হয়েছে। পেশির সমস্যার কারণে দ্বিতীয় ম্যাচও মিস করতে পারেন গুস্তাভো কাবাইয়েরো।

ফেবারিট হিসেবে বিবেচিত হলেও প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ দলটি প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে হোঁচট খেলে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেহেতু শেষ ম্যাচে সহআয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হতে হবে, তাই এই ম্যাচে অবশ্যই সর্বোচ্চ পয়েন্টের জন্য লড়তে হবে তুরস্ককে।

অপর দিকে লা আলবিরোজা পরিচিত প্যারাগুয়ে প্রায়শই একটি ম্যাচে একাধিকবার গোল করতে হিমশিম খায়। আলফারোর আক্রমণভাগ তাদের শেষ ছয়টি ম্যাচের মধ্যে চারটিতে মাত্র একটি করে গোল করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্্েরর বিপক্ষে নিজেদের দুর্বলতা থেকে শিক্ষা নিয়েছে প্যারাগুয়েও, কিন্তু চূড়ান্ত স্কোরলাইনের ক্ষেত্রে দুই দলের মধ্যে ব্যক্তিগত প্রতিভার পার্থক্যই সম্ভবত নির্ধারক ভূমিকা পালন করবে। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে গোড়ালির সমস্যায় পড়েছেন রামোন সোসাও। ড্যানিয়েল এনসিসের গতি ও আক্রমণাত্মক কৌশল তাদের বড় ভরসা হলেও দুর্বল রক্ষণভাগ নিয়ে বেশ চাপে প্যারাগুয়ে। লেফট-ব্যাকে জুনিয়র আলোনসোর জায়গায় খেলতে পারেন আলেক্সান্দ্রো মাইদানা। বদলি হিসেবে গোল করার পর মাউরিসিও। আজকের ম্যাচে প্রথম একাদশে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তার। যদিও আলফারোর আক্রমণভাগের চারজন হুলিও এনসিসো, মিগেল আলমিরন, দিয়েগো গোমেজের সাথে একমাত্র স্ট্রাইকার টনি সানাব্রিয়া বেশ গোছানো। নিজেদের ঘুরে দাঁড়ানোর কৌশলের ওপর ভর করে ম্যাচটি হাড্ডাহাড্ডি আশা করছেন কোচ আলফারো।

তুরস্ক ও প্যারাগুয়ে ফুটবল দল এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মাত্র ১ বার মুখোমুখি হয়েছে। ১৯৯৫ সালের জুনে প্রীতিম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। দ্বিতীয়বারের মতো চলমান বিশ্বকাপে একে অপরের মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য দুই দলেরই।