ক্রীড়া ডেস্ক
স্পেনের কাছে সেমিফাইনালে ২-০ গোলে হেরে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙেছে ফ্রান্সের। এর মধ্য দিয়ে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে দিদিয়ের দেশমের দীর্ঘ ১৪ বছরের অধ্যায়ও শেষের পথে। তবে বিদায়টা যেভাবে কল্পনা করেছিলেন, তা আর হলো না। এখন তার শেষ ম্যাচ হবে শনিবার মিয়ামিতে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী লড়াইয়ে।
খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯৮ এবং কোচ হিসেবে ২০১৮ সালে বিশ্বকাপজয়ী দেশম ২০২৫ সালের শুরুতেই জানিয়েছিলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষে তিনি দায়িত্ব ছাড়বেন। কিন্তু শেষটা বিশ্বকাপের ফাইনালে নয়, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই হতাশ তিনি।
ম্যাচ শেষে দেশম বলেন, এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলার সময় নয়। সেমিফাইনাল বা ফাইনাল কোথায় বিদায় নিচ্ছি, সেটি ব্যক্তিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমি অত্যন্ত গর্বিত। এই দলকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পেরেছি এবং বিশ্বকাপ জিতেছি এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’
ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে ম্যাচের কৌশলগত দিক নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তার মতে, মাঝমাঠে সংখ্যাগত ঘাটতি এবং সমন্বয়ের অভাবের সুযোগ নিয়েছে স্পেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যা করার দরকার, আমরা তা করতে পারিনি। স্পেন তাদের পরিকল্পনা নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করেছে।’
দেশমের অধীনে ফ্রান্স বিশ্বকাপে ২৬টি ম্যাচ খেলেছে, যা কোনো কোচের জন্য সর্বোচ্চ। এর মধ্যে ২০টিতেই জয় পেয়েছে দলটি। খেলোয়াড় ও কোচ দুই ভূমিকাতেই বিশ্বকাপ জয়ী মাত্র তিনজনের একজন তিনি।
ফ্রান্সের সাবেক স্ট্রাইকার অলিভিয়ে জিরু মনে করেন, দেশম আরো মর্যাদাপূর্ণ বিদায়ের যোগ্য ছিলেন। তিনি বলেন, ‘সব খেলোয়াড়ই তাকে কাক্সিক্ষত বিদায় উপহার দিতে চেয়েছিল। তিনি অনেকের কাছে দ্বিতীয় বাবার মতো। তার অবদানই তার হয়ে কথা বলবে।’
এ দিকে ফরাসি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশম উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন তার সাবেক সতীর্থ জিনেদিন জিদান। তবে সাবেক ডিফেন্ডার গায়েল ক্লিশির মতে, ‘দেশমের পরে যে-ই আসুক, তার জন্য কাজটা মোটেও সহজ হবে না।’



