বিশেষ সংবাদদাতা
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, বিগত সাড়ে ১৫ বছরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে নেয়া অধিকাংশ প্রকল্প জনস্বার্থের পরিবর্তে অলিগার্ক বা প্রভাবশালী গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষার উদ্দেশ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০)’ বিষয়ক নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া সঙ্কট, আর্থিক দায় এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির বোঝা বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে টেকসই ও জনবান্ধব করে তুলতে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, আমদানিনির্ভরতা কমাতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তবে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কিনে বা উৎপাদন করে তার অতিরিক্ত ব্যয় সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেয়া হবে না। রুফটপ সোলার ব্যবস্থাকে বেসরকারি খাতে আরো বিস্তৃত করার পক্ষেও মত দেন তিনি। একই সাথে কৃষিজমি রক্ষা করে পতিত জমিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ বেসরকারি খাতে উৎপাদিত হলেও তা তুলনামূলক ব্যয়বহুল। পূর্ববর্তী সরকারের করা বিভিন্ন চুক্তির কারণে সরকারকে এখনো বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে। তার দাবি, আগের সরকার বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রেখে গেছে। সেই বকেয়া পরিশোধের পাশাপাশি নতুন দায়ও মেটাতে হচ্ছে, ফলে সরকারকে প্রতি মাসে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পাওনা পরিশোধে বিলম্ব হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সরকার এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়লে আমদানি ব্যয় কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চাপও হ্রাস পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি জানান, সরকার তিন মাসের জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে এবং এ লক্ষ্যে সম্ভাব্য সব ধরনের বিকল্প নিয়ে কাজ চলছে। তিনি আরো বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণ। তাই নাগরিকদের আস্থা ও সন্তুষ্টি বজায় রেখে বিপুল ঋণের বোঝা কাটিয়ে উঠতে সরকার কাজ করছে। এ কঠিন দায়িত্ব পালনে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে ‘জাতীয় জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম।



