দেশের সব মানুষকে জিজিটাল সেবার আওতায় আনতে চায় সরকার : অর্থমন্ত্রী

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

দেশের সব মানুষকে জিজিটাল সেবার আওতায় আনতে চায় সরকার। ডিজিটালের আওতায় সাধারণ মানুষ ছাড়াও ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, কৃষক, শ্রমিকরা রয়েছেন।

গতকাল সোমবার সচিবালয়ের অর্থ বিভাগের মাল্টিপারপাস হলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উদ্যোগে ‘ইনোভেশন শোকেসিং ২০২৫-২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক। আলোচনায় অংশ নেন মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বীমা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন, জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মজিবুর রহমান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দেশকে ডিজিটালাইজেশন করতে হবে। এর মাধ্যমে আমরা চাই বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, কৃষক, শ্রমিক সবাইকে এর আওতায় আসতে হবে। সেজন্য আপনারা বাজেটে খেয়াল করেছেন, আমাদের অ্যালোকেশনে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই ইনক্লুসিভনেস আপনি খালি অর্থনীতিতে আনলে হবে না। এই যে মানুষের দুয়ারে সার্ভিস পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে আপনাদের। ডিজিটাল রূপান্তরে বিশ্বের শীর্ষ দেশ এস্তোনিয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল সেখানে সফরে রয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমাদের একটা টিম সেখানে গিয়েছে, আইসিটি অ্যাডভাইজার, গভর্নর এবং অন্যরা গেছে। মানে এটার গুরুত্ব এত বেশি আমরা মনে করছি এই মুহূর্তে।

ডিজিটাল সেবার প্রসার বাড়াতে ব্যাংক, বীমা ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে আরো সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অধীন দফতর-সংস্থাগুলোর প্রধানদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘দরকার হলে দুটি-তিনটি অফিসার রাখবেন যে আপনাদের কাজ হচ্ছে এটাকে কাভারেজ (অনলাইন সেবা) বাড়ানোর জন্য অ্যাসিস্ট করা। তারা এই দায়িত্বগুলো যদি পালন করে, তাহলে আপনার কাভারেজ বাড়বে।’ তিনি বলেন, ‘ইন্স্যুরেন্সের ক্লেইম পাচ্ছেন না, শেয়ারবাজারে যারা আছে তারা যারা এটাকে মিসইউজ করছে, প্রতিটি ক্ষেত্রে মিসইউজ হচ্ছে। এগুলোকে যদি চেক দিতে হয়, আমাকে এটার (ডিজিটাল সেবা) ফুল ইমপ্লিমেন্টেশন করতে হবে।’ অনুষ্ঠানে উদ্যোগের প্রশংসা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের উদ্যোগটা ভালো ছিল। এটা অনেকের জন্য আই-ওপেনার। তবে আমি আবারো বলছি, এই আউটরিচটা করতে হলে আপনাদের খালি একটা প্রজেক্ট করলে তো হবে না, এটার আউটরিচ যদি না হয়, তাহলে এটার বেনিফিট পাবে না।’

পুরস্কার পেলেন ৫ প্রতিষ্ঠান

এ দিকে সেবা সহজ করতে উদ্ভাবনী উদ্যোগের কারণে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে সেরা নির্বাচিত করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সেরা এ পাঁচ দফতর-সংস্থার প্রধানদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল সেবা, প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম ও সেবার মানোন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পুরস্কার দেয়া হয়। রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক ক্যাটাগরিতে জনতা ব্যাংক পিএলসি জনতা-পে (জনতা পেমেন্ট গেটওয়ে) সেবার জন্য পুরস্কার অর্জন করেছে।

রাষ্ট্রমালিকানাধীন বিশেষায়িত ব্যাংক ক্যাটাগরিতে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক ‘ই-মাইগ্রেশন ঋণ সেবা (ই-মাইগ্রেশন লোন প্রসেসিং সার্ভিস-ইএমএলপিএস)’ চালুর জন্য পুরস্কৃত হয়েছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা ক্যাটাগরিতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) তাদের ‘ইনস্যুরেন্স মোবাইল অ্যাপ’-এর জন্য পুরস্কার পেয়েছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (বিএইচবিএফসি) ‘দলিলপত্র ফেরত প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়করণ’ উদ্যোগের জন্য পুরস্কার পেয়েছে। অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ‘জিআইএস বেইজড সুপারভিশন অ্যান্ড মনিটরিং সিস্টেম’-এর জন্য পুরস্কৃত হয়েছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীন ২৫টি দফতর-সংস্থার উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রদর্শনী করা হয়েছে। এতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের দু’টি করে সেবা স্থান পেয়েছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের চিফ ইনোভেশন অফিসার ও যুগ্ম সচিব ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত বিভাগের তত্ত্বাবধানে থাকা দফতর ও সংস্থাগুলো ৩২৯টি সেবা ডিজিটালাইজ করেছে।