বিশ্বের নজর ইয়ামাল ও বৈভবে

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

মিলিয়ন বিলিয়ন ভক্তদের মেধা মননে ফুটবল আর ক্রিকেট। আর এর মধ্যে কয়েকজন খেলোয়াড়রা পারফরম্যান্স দিয়ে বিশ্বকে বাধ্য করে নিজেদের দিকে তাকাতে। এ দুই খেলায় এখন দাপট দুই টিনএজার ১৯ বছর বয়সী লামিন ইয়ামাল আর ১৫ বছর বয়সী বৈভব সূর্যবংশী। তাদের সহজাত প্রতিভা দিয়ে মুগ্ধ করেছেন কোটি দর্শককে। কিশোর বয়সেই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন। এ দুই প্রতিভা আরো অনেক বছর বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন মাতাবেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এমন কথাও উঠছে কোথায় গিয়ে থামবেন তারা।

স্পেন দুর্দান্ত দাপটে পৌঁছে গেছে বিশ্বকাপের ফাইনালে। আগামী রোববার রাতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় শিরোপার লড়াইয়ে নামবে স্পেন। আর স্পেনের বিশ্বকাপ অভিযাত্রার কেন্দ্রে আছেন গত সপ্তাহে ১৯-এ পা দেয়া লামিনে ইয়ামাল। মাত্র ১৫ বছর ৯ মাস ১৬ দিন বয়সে বার্সেলোনার হয়ে খেলে লা লিগায় ক্লাবের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হওয়ার রেকর্ড গড়েছেন। ১৯-এ পা দেয়ার অনেক আগেই তার শোকেস উপচে পড়ছে শিরোপায়। স্পেনের হয়ে জিতেছেন ইউরো, এরই মধ্যে বার্সেলোনার হয়ে তিনটি লা-লিগা শিরোপা আছে তার ভাণ্ডারে। লা-লিগা এবং উয়েফা চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে গোল করেছেন ইয়ামাল। মাত্র ১৭ বছর ২৯১ দিন বয়সেই ক্লাবের হয়ে ১০০টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়েছেন। ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা দুই বছর (২০২৪ ও ২০২৫) বিশ্বের সেরা অনূর্ধ্ব-২১ খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতেন। ২০২৪ সালে নির্বাচিত হন ইউরোপের সেরা তরুণ খেলোয়াড় হিসেবে।

মাত্র ১৮ বছর বয়সে ২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অর-এ রানার্স আপ হয়েছেন। এখন একটা বিশ্বকাপ হলেই তার সাফল্যের মুকুটটি হবে আরো ঝলমলে।

ডিসিপ্লিন সম্পূর্ণ আলাদা হলেও ভারতের বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান বৈভব সূর্যবংশীর গল্পটাও অনেকটা একই রকম। ১৫ বছর বয়সেই একের পর এক রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন এই বিস্ময়বালক। এমনকি গোটা বিশ্ব যখন ফুটবলে বুঁদ, তখনো লাইমইাইট অনেকটাই নিজের দিকে কেড়ে নিতে পেরেছিলেন বৈভব। তার অভিষেক হওয়া না হওয়া নিয়ে রীতিমতো বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল ক্রিকেট বিশ্ব। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ১৫ বছর ৯৯ দিনে তার রেকর্ডভাঙা অভিষেক হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখনো নিজেকে পুরোপুরি মেলে ধরতে না পারলেও বৈভব ভেঙে দিয়েছেন পুরনো অনেক রেকর্ড।

ক্রিকেট ঈশ্বর শচিনকে হটিয়ে বৈভব সূর্যবংশী এখন ভারতের সবচেয়ে কম বয়সী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। ১৪ বছর ২৩ দিন বয়সে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে মাঠে নামা বৈভব আইপিএলেরও সবচেয়ে কমবয়সী ক্রিকেটার। আইপিএলের প্রথম মৌসুমেই মাত্র ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন বৈভব, যা আইপিএলে কোনো ভারতীয় খেলোয়াড়ের দ্রুততম সেঞ্চুরি। আর এবারের আইপিএলে তো তিনি নেমেছিলেন রেকর্ড ভাঙার ব্রত নিয়ে। ২৩৭.৩০ স্ট্রাইক রেটে ৭৭৬ রান করে ১৫ বছর বয়সী বৈভব ছিলেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ৭২ ছক্কা মেরে ভেঙেছেন ক্রিস গেইলের রেকর্ড। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের অধিকাংশ রেকর্ডই এখন বিহারের ছেলে বৈভবের দখলে।

দুই কিশোর প্রতিভার আরো একটি দিকে মিল রয়েছে, উভয়েই বাঁ হাতি। ইয়ামালের রয়েছে একটি বিপজ্জনক বাম পা। সাথে দুর্দান্ত ড্রিবলিং ও নিখুঁত প্লেমেকিং দক্ষতা তাকে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার ও গোলকিপারদের কাছে আতঙ্কে পরিণত করেছে। বাঁ হাতি সূর্যবংশীর সামনেও অসহায় বিশ্বের বাঘা বাঘা সব বোলাররা। খেলাধুলায় শীর্ষস্থানে থাকার পাশাপাশি সূর্যবংশী এবং ইয়ামাল দু’জনেই তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। বার্সেলোনা তারকা ইয়ামাল ইউরো ২০২৪-এ স্পেনের প্রতিনিধিত্ব করার সময়ই তার স্কুলের পরীক্ষায় পাস করেছিলেন। অন্য দিকে সূর্যবংশী এই বছরের শুরুতে সিবিএসই ক্লাস ১০-এর বোর্ড পরীক্ষার জন্য নাম নিবন্ধন করে অ্যাডমিট কার্ড পেলেও ব্যস্ত ক্রিকেট সূচির কারণে পরীক্ষায় বসতে পারেননি।

মেসি বার্সেলোনা ছাড়ার পর ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি এখন লামিন ইয়ামালের হাতে। মজাটা হলো বার্সেলোনার দুই কিংবদন্তির প্রথম দেখা হয়েছিল এই ন্যু ক্যাম্পেই। ১৯ বছর আগে পাঁচ মাস বয়সী ইয়ামাল মায়ের সাথে ন্যু ক্যাম্পে গিয়েছিলেন। ২০ বছর বয়সী লিওনেল মেসি তখন তাকে বাথটাবে গোসল করিয়ে দিয়েছিলেন। এমন একটি ছবি এখন বিশ্বজুড়ে ভাইরাল। তখন কে জানত এ দু’জন এক দিন বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবেন। অবিশ্বাস্য প্রতিভা এবং মানসিক দৃঢতা, এই উপাদানগুলো এ পর্যন্ত ইয়ামাল এবং সূর্যবংশীর ক্যারিয়ারে বিশাল ভূমিকা পালন করেছে।