নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর কাঁঠালবাগানে শ্বশুরের বাসায় গিয়ে স্ত্রী ও শাশুড়িকে কুপিয়ে হত্যা করেছে শিপন নামে এক ব্যক্তি। এরপর এক বছরের সন্তানকে নিয়ে নিজেই কলাবাগান থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। গতকাল সকাল ৯টার দিকে কাঁঠালবাগান ঢালের একটি বাসায় এই ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ফারজানা আক্তার রাত্রি (২০) ও মা ফিরোজা বেগম (৩৮)।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, ভালোবেসে বিয়ে করেন শিপন ও রাত্রি। বিয়ের পর কিছু দিন ভালোভাবে কাটলেও পরে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়। এর মধ্যে তাদের ঘরে জন্ম নেয় রায়হান নামে একটি সন্তান। কিন্তু তাদের কলহ এমন পর্যায়ে চলে যায় যে শিপন রাত্রিকে তালাক দিয়ে দেন। কিন্তু সন্তানের কথা চিন্তা করে পারিবারিক মীমাংসার মাধ্যমে তারা আবারো একসাথে বসবাস করতে শুরু করেন।
এর মধ্যে রাত্রির গ্রামের বাড়ি শরিয়তপুরে তার আত্মীয়য়ের বিয়ে ঠিক হয়। শিপনসহ পরিবারের সবাই সেই বিয়েতে উপস্থিত হন। কিন্তু সেখানে গিয়েও দুইজনের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে রাগ হয়ে শিপন না খেয়ে সেখান থেকে সোজা ঢাকায় তার মোহাম্মদপুরের বাসায় চলে আসেন। রাত্রি বাবা-মায়ের সাথে বিয়ে খেয়ে শনিবার ঢাকায় ফিরে বাবার কাঁঠালবাগানের বাসায় ওঠেন।
রাত্রির বাবা ফারুক হোসেন বলেন, গতকাল সকালে তিনি বাসা থেকে বের হন। রাত্রি তার সন্তান ও মা ফিরোজা কাঁঠালবাগানের বাসায় ছিলেন। সকাল ৯টার দিকে শিপন সেখানে এসে সেই বিয়ে বাড়ির পুরনো বিষয় নিয়ে রাত্রির সাথে ঝগড়ার একপর্যায়ে তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত শুরু করেন। মেয়ের চিৎকারে মা ফিরোজা তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে আহত করে। এরপর এক বছরের ছেলে রায়হানকে কোলে নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যান শিপন। খবর পেয়ে ফারুক দ্রুত বাসায় ফিরে দেখেন মেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা গেছে। আহত স্ত্রীকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।
কলাবাগান থানার ওসি ফজলে আশিক জানান, সকাল ৯টার দিকে কলাবাগান থানার আল আমিন মসজিদের ৫২ নম্বর বাসার পঞ্চম তলায় স্ত্রী রাত্রির সাথে কথা-কাটাকাটি হয় জামাই শিপনের। পরে শাশুড়ি ফিরোজা বেগম মেয়ের পক্ষ নিলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুইজনকেই আঘাত করেন শিপন। এতে ঘটনাস্থলেই রাত্রি মারা যান এবং গুরুতর আহত অবস্থায় ফিরোজা বেগমকে ঢাকা মেডিক্যালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরো জানান, ঘটনার পর শিপন নিজেই থানা এসে হাজির হন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, রাত্রির সাথে শিপনের ডিভোর্স হয়ে গিয়েছিল, এরপরও তারা একসাথেই থাকতেন। ঘটনার পেছনের বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
রাত্রির চাচাতো বোন সুমাইয়া বলেন, প্রেমের সম্পর্কে রাত্রির বিয়ে হলেও তাদের দাম্পত্য জীবনে প্রায়ই পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত। আগে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হলেও পারিবারিকভাবে আলোচনার মাধ্যমে আবার একসাথে সংসার শুরু করেছিলেন তারা।



