ক্রীড়া প্রতিবেদক
আজ বেলা ২টায় মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটি। নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে এলেন ওডিআই ক্যাপ্টেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড সিরিজ জেতার পর এবার চোখ অস্ট্রেলিয়া সিরিজে। প্রথম ম্যাচ জয় দিয়েই শুরু করতে চান অসি মিশন।
জানালেন, ‘আমরা সবাই অনেক এক্সাইটেড। দীর্ঘ দিন পর অস্ট্রেলিয়ার সাথে সিরিজ খেলছি। অধিনায়ক হিসেবে আমিও অনেক এক্সাইটেড। আমাদের জন্য ভালো একটা চ্যালেঞ্জ শুরু হতে যাচ্ছে। ভালো শুরু পেলে ভালো হবে। প্রতিটি চ্যালেঞ্জই ইম্পরট্যান্ট। মোসাদ্দেক ঘরোয়া ক্রিকেটে অনেক বছর ধরে পারফর্ম করছে। খুব ভালো খেলছে, ভালো শেইপে আছে- এটাই সঠিক সময়। যে জায়গায় ওকে নেয়া হয়েছে, যদি ভালো করতে পারে দলের জন্য ভালো হবে। নাহিদ রানার যে পটেনশিয়াল, জোরে এবং ভালো জায়গায় বল করতে পারে। সামনে বিশ্বকাপ দক্ষিণ আফ্রিকায়। তাই পেসারদের দলে থাকা ইম্পরট্যান্ট। আমরা সেভাবেই ওকে চিন্তা করছি, সাহস দিয়ে ব্যাক করছি।’
মিডল অর্ডার নিজের ফর্ম নিয়ে মিরাজ বলেন, ‘আমি অনেক কনফিডেন্ট। হৃদয়, মোসাদ্দেক, লিটন-খুব ভালো কম্বিনেশন আছে এখন। রিশাদ ঘরোয়া এবং অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছে এবং নিজেকে গুছিয়ে নিচ্ছে। নিজেকে আরো প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে আররা ভালো পারফর্ম করতে হবে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট ও ওয়ানডে ভিন্ন খেলা। ওকে আরো প্রো একটিভ হতে হবে, যেহেতু ওয়ানডেতে এত বেশি ম্যাচ খেলেনি।’
মিরপুরের উইকেট নিয়ে মিরাজের বক্তব্য, ‘সবার মাইন্ডসেট এমন ছিল- মিরপুর মানেই ঘূর্ণি উইকেট, মিরপুর মানেই বাজে উইকেট। এরকম না। মিরপুরেও ভালো উইকেট করতে পারি, গত ২-৩ সিরিজেও দেখেছি। ভালো উইকেটে ম্যাচ জিতলে আত্মবিশ্বাস পাওয়া যাবে। যেহেতু এই কন্ডিশনে খেলে অভ্যস্ত, উইকেট সম্পর্কেও জানি। বোলাররা যেভাবে বল করছে, কম্বিনেশন ভালো থাকলে অবশ্যই ফলাফল পক্ষে আসবে।’
মোসাদ্দেককে প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবার একটা গুঞ্জন উঠেছিল। সেটি উড়িয়ে দিলেন মিরাজ। ‘আমি ও মোসাদ্দেক জাতীয় দলে একসাথে অনেক দিন খেলেছি। ২০১৯ বিশ্বকাপও একসাথে খেলেছি। এটা ভিন্ন কিছু না। ও ওর রোল প্লে করবে, আমি আমারটা। ও ব্যাটিং অলরাউন্ডার, আমি বোলিং অলরাউন্ডার। দুজনের ভূমিকা ভিন্ন। ওকে নিয়ে আমি আশাবাদী, সুযোগ পেলে ভালো করবে। বাড়তি বোলার থাকলে আত্মবিশ্বাসও বেশি থাকে। একজন বোলারের খারাপ দিন যেতে পারে। ব্যাকআপ থাকলে ব্যালেন্স ভালো থাকে।’
অসি দলে অভিজ্ঞ হেড-মার্শ নেই। তাতে বিচলিত নন মিরাজ, ‘তারা না এলেও যারা এসেছে তারা অনেক ভালো এবং শক্তিশালী। ওদের নিয়ে বেশি চিন্তা না করে আমাদের জায়গা থেকে পারফর্ম করার চেষ্টা করব। গত ৩ সিরিজ জিতেছি। এটাও ইম্পরট্যান্ট সিরিজ, সামনে বিশ্বকাপের ইকুয়েশন আছে। গত ৩ সিরিজের ধারাবাহিকতা রাখলে এবারো ভালো করতে পারব। এখন থেকেই বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নিব। বিশ্বকাপেও ওদের সাথে খেলতে হবে।
সিরিজের আগে বোলিং কোচ টেইটকে নিয়ে মিরাজের কথা, ‘টেইট লাস্ট মোমেন্টে বলেছে। এটা বোর্ড ডিসকাশন করেছে, কথা বলেছে। এটা লোকাল কোচদের জন্য বিরাট সুযোগ। সবাই অনেক ফর্মে আছে, টাচে আছে, ডিপিএলেও ভালো খেলেছে। এ কারণেই আমি আশাবাদী। অনেক বছর পর অস্ট্রেলিয়ার সাথে খেলছি। একজন অভিভাবক থাকলে খেলোয়াড়দেরও নিরাপত্তা থাকে। এখন বোর্ডে যারা এসেছেন, অবশ্যই চেষ্টা করবেন বাংলাদেশের ক্রিকেটকে একটা জায়গায় নিয়ে যেতে।



