নয়া দিগন্ত ডেস্ক
বেপরোয়া গতির ট্রাকের চাপায় লালমনিরহাটে দু’জন এবং সাতক্ষীরায় একজন নিহত ও কমপক্ষে চারজন আহত হয়েছেন। এদিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বাস-ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ৩ জন।
লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় একটি ট্রাকের চাপায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আরো চারজন আহত হয়েছেন। শনিবার দুপুরে হাতীবান্ধা বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীঘিরহাট এলাকা থেকে একটি যাত্রীবাহী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা হাতীবান্ধার দিকে আসছিল। এ সময় বুড়িমারী স্থলবন্দরগামী একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দু’টি মোটরসাইকেল ও ওই অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হন।
দুর্ঘটনায় আরো চারজন আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাতীবান্ধা থানার ওসি আশরাফুজ্জামান সরকার জানান, নিহত দু’জনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি আটক করা হয়েছে। তবে ট্রাকের চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন।
কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা জানান, সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে দ্রুতগতির ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে আবু রায়হান (৩০) নামে এক যুবক মারা গেছেন। শনিবার দুপুরে সাতক্ষীরা-শ্যামনগর সড়কের কালিগঞ্জ ফিলিং স্টেশনের পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আবু রায়হান শ্যামনগর উপজেলার কাটখালী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি হ্যামকো কোম্পানির ডেলিভারিম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে আবু রায়হান হ্যামকো কোম্পানির মালামাল নিয়ে ডেলিভারি ভ্যানে নলতার দিকে যাচ্ছিলেন। কালিগঞ্জ ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে একটি দ্রুতগতির ট্রাক তার ভ্যানে সজোরে ধাক্কা দিলে তিনি সড়কে পড়ে যান। এ সময় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় আবু রায়হানের। স্থানীয় জনতা ট্রাকটি আটক করলেও চালক পালিয়ে গেছে।
খবর পেয়ে কালিগঞ্জ থানার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে থানায় নিয়ে যায়। কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো এবং যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন আছে।
গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি জানান, গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী বাসের সাথে গরুবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষে তিনজনের প্রাণহানি ঘটেছে, আহত হয়েছেন আরো তিনজন। দুর্ঘটনায় ট্রাকে থাকা ৯টি গরুর মধ্যে পাঁচটি ঘটনাস্থলেই মারা যায়, মুমূর্ষু অবস্থায় বাকি চারটি জবাই করতে বাধ্য হন স্থানীয়রা। শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার গোয়ালবাথান এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ঢাকামুখী লেনে চলাচলরত গরুবাহী ট্রাকটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস, যার আঘাতে ট্রাকের সামনের অংশ সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে যায়। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ট্রাকচালক আলমগীর হোসেন (৩০)। তিনি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার আব্দুর রশিদের ছেলে। আরেকজন হানিফ আলী (৪৩), তিনি একই উপজেলার খোরশেদ মিয়ার ছেলে এবং পেশায় গরু ব্যবসায়ী ছিলেন। তৃতীয় নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। খবর পেয়ে কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুমড়ে যাওয়া ট্রাকের ভেতর থেকে দু’জনের লাশ উদ্ধার করে এবং বাকি তিনজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এ দিকে নাওজোড় হাইওয়ে পুলিশও ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। আহত ও নিহতদের কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।



