সিলেট ব্যুরো
রাষ্ট্রপতি পদে সর্বজনশ্রদ্ধেয়, গ্রহণযোগ্য ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও দলের মিডিয়া সেলের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। গতকাল শুক্রবার দুপুরে সিলেট আলিয়া মাদরাসা ময়দানে সমাবেশের প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতির পদ বাংলাদেশের সবচেয়ে সম্মানজনক হলেও বর্তমান ব্যবস্থায় এ পদটির কার্যকর ভূমিকা সীমিত। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, রাষ্ট্রের সঙ্কটময় সময়ে দায়িত্বে থাকা কয়েকজন রাষ্ট্রপতি তাদের শপথ ও সাংবিধানিক দায়িত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেননি। এমনকি জাতীয় দুর্যোগ ও গণহত্যার মতো ঘটনায়ও তাদের মধ্যে প্রত্যাশিত দায়িত্ববোধের ঘাটতি ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। জুবায়ের বলেন, রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে এমন একজন ব্যক্তিকে বসানো উচিত, যিনি সর্বজন শ্রদ্ধেয়, গ্রহণযোগ্য, দায়িত্বশীল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনপ্রাপ্ত দলের দায়িত্ব হবে এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে যোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত করা।
প্রেস ব্রিফিংকালে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের “সিলেটবাসী আলিয়া মাঠের বিভাগীয় সমাবেশ সফলে সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুত রয়েছে” জানিয়ে বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার দোসরদের বিচারের দাবিতে রাজশাহী থেকে ১১ দলীয় ঐক্য বিভাগীয় সমাবেশ শুরু হয়েছিল। ধারাবাহিকভাবে দেশের সব বিভাগে কর্মসূচি পালনের পর শনিবার সিলেটের সমাবেশের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচির সমাপ্তি হবে। আলিয়া মাঠের বিভাগীয় সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন এবং সমাবেশ থেকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। নতুন কর্মসূচির মধ্যে রাজধানী ঢাকায় মহাসমাবেশসহ আরো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি আসতে পারে বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, ১১ দলীয় ঐক্য জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা পূরণে জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের পর সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষাকে উপেক্ষা ও অবজ্ঞা করেছে। অথচ বিএনপিসহ ৩৩টি রাজনৈতিক দল জুলাই সনদে এ বিষয়ে লিখিত অঙ্গীকার করেছিল। কিন্তু বিএনপি সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ করে জাতির সাথে প্রতারণা করেছে।
এ সময় তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু সরকার ক্ষমতায় গিয়েই ফ্যাসিবাদী শাসনের পথে হাঁটছে। তারা স্বাধীন বিচার বিভাগকে ধ্বংস করতে বিচার বিভাগীয় সচিবালয় বাতিল করেছে এবং মানবাধিকার কমিশন বিলুপ্ত করে ফ্যাসিবাদী আইনি কাঠামোয় ফিরে গেছে। মুখে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও বাস্তবে সরকার উল্টো পথে হাঁটছে।
মহানগর ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সিলেট জেলা আহ্বায়ক জুনেদ আহমদ, সিলেট মহানগর আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান আফজল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (বিকেএম) সিলেট মহানগর সভাপতি আলহাজ মাওলানা এমরান আলম ও জেলা সভাপতি মাওলানা ইকবাল হুছাইন, বাংলাদেশ লেবারপার্টির সিলেট মহানগর সভাপতি মাহবুবুর রহমান খালেদ ও জেলা সভাপতি দেওয়ান মতিউর রহমান খান, এলডিপি সিলেট জেলা সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন লিটন, জাগপা সিলেট মহানগর সভাপতি শাহজাহান আহমদ লিটন, আমার বাংলাদেশ পার্টি-এবি পার্টির সিলেট মহানগর সভাপতি ওমর ফারুক, নেজামে ইসলামী পার্টির জেলা সভাপতি মাওলানা মুজাম্মিল হক তালুকদার, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি-বিডিপি সিলেট মহানগর সভাপতি কবির আহমদ, সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ড. নুরুল ইসলাম বাবুল, মহানগর সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলী ও জেলা সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন প্রমুখ।



