ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

Printed Edition
কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল
কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

ফজলুল হক রোমান নেত্রকোনা

বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনে বিএনপি মনোনিত সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। নানান আলোচনা-সমালোচনায় তিনি এতোদিন লাইম লাইটে চলে আসার পর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই আন্দোলনের সম্মুখ যোদ্ধা ওসমান হাদির হত্যাকারী নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কিলার ফয়সালের আইনজীবী হিসেবে তাকে জামিনে জেল থেকে বের করে আনায় কায়সার কামাল রাতারাতি আলোচিত ও সমালোচিত হয়ে উঠছেন।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিগত ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তার প্রতিপক্ষ ছিলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত ভাড়াটিয়া প্রার্থী শেখ হাসিনার দেহরক্ষী মানু মজুমদার। কায়সার কামালকে মাঠে নামতেই দেয়া হয়নি তখন। তাকে ব্যারিকেট দিয়ে নানাভাবে হয়রানি করা এবং তার গ্রামের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। পরে কায়সার কামাল এক সংবাদ সম্মেলন শিশুর মতো কেঁদে কেঁদে এ হামলার প্রতিবাদ করেন।

সম্প্রতি ওসমান হাদির হত্যাকারী ছাত্রলীগের শীর্ষ সন্ত্রাসীকে জামিন করার ঘটনায় তিনি এখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছেন। সবার মধ্যে একটাই প্রশ্ন, তিনি বিএনপির নেতা হয়ে ছাত্রলীগের ওই সন্ত্রাসীকে কেন জামিনে ছাড়িয়ে আনলেন।

দি ডিসেন্টের তথ্যমতে, বিএনপির আইনজীবীরাই ছাত্রলীগের এই শীর্ষ সন্ত্রাসীকে জামিনে জেল থেকে ছাড়িয়ে আনার পরেই ফয়সাল এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটায়। ফয়সালের নিক্ষিপ্ত বুলেটের আঘাতে ওসমান হাদি এক সপ্তাহ মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে মারা যান। উল্লেখ্য, গত বছর ডাকাতিকালে অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে আটক এবং অস্ত্র মামলায় গ্রেফতার হয় ছাত্রলীগের শীর্ষ সন্ত্রাসী ফয়সাল। শেষ পর্যন্ত এই সন্ত্রাসীকেই জামিনে ছাড়িয়ে আনেন ব্যারিস্টার কায়সার কামালসহ আরো কয়েকজন আইনজীবী। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে গত ১২ ডিসেম্বর শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর বুকে প্রকাশ্যে ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করে সন্ত্রাসী ফয়সাল। গুলিবিদ্ধ হাদিকে মূমুর্ষু অবস্থায় প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে, পরে এভার কেয়ার এবং শেষে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর নেয়া হয়। কিন্তু ছয় দিনের মাথায় গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে মারা যান হাদি। হাদির মৃত্যু সংবাদ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়লে রাজধানীসহ সারা দেশের ছাত্র-জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।

ওসমান হাদির এই অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর ঘটনায় দেশবাসী যেভাবে শোকাহত ও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে, এর আগে তা আর কখনো দেখা যায়নি। তার জানাজায় শরিক হতে মানুষের ঢল নামে। স্মরণকালের সর্ববৃহৎ এই জানাজায় তাকবির দেয়ার সাথে সাথে উপস্থিত জনতা যেভাবে কান্নায় ভেঙে পড়ে, ইন্টারনেটের সুবাদে পুরো বিশ্ব তা প্রত্যক্ষ করে হতবিহবল হয়ে পড়ে। কারো জন্য এত আবেগ আর ভালোবাসা এর আগে হয়তোবা আর কেউ দেখেনি। হাদির এই আত্মত্যাগে বাংলাদেশে জন্ম নিল নতুন এক ইতিহাস।