সংক্ষিপ্ত সংবাদ

Printed Edition

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার

রংপুরের পীরগঞ্জ থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতার ব্যক্তি উপজেলার কাফ্রিখাল এলাকার আশকর আলীর ছেলে আবু তাহের। পুলিশ জানায়, ২০০৭ সালের ১৩ ডিসেম্বর আবু তাহের তার ছয় বছর বয়সী মেয়ে তাজমিনাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর কাফ্রিখাল থেকে শ্যামপুর যাওয়ার পথে একটি আখক্ষেতে লাশ ফেলে যান। এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর নিহত শিশুর স্বজন সালেহা বেগম বাদি হয়ে পীরগঞ্জ থানায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার বিচার শেষে আদালত আবু তাহেরকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। এরপর থেকে তিনি দীর্ঘ দিন পলাতক ছিলেন। পীরগঞ্জ থানার এসআই ইমরান হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গতকাল রোববার রাতে ঢাকার আশুলিয়া থানার বাইপাইল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। পরে গ্রেফতার আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে রংপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পীরগঞ্জ (রংপুর) সংবাদদাতা।

হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কেতকিরহাট মাঝিপাড়া গ্রামের শাহ জালাল মিয়া হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গতকাল রোববার দুপুরে উপজেলা পরিষদ গেটের সামনে আয়োজিত কর্মসূচি থেকে প্রধান অভিযুক্ত গোলাম হোসেনকে দ্রুত গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনে নিহতের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। পরে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। সমাবেশে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম আকন্দ, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল হোসেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির উপজেলা সদস্যসচিব জাহিদ হাসান জীবন, নিহতের স্ত্রী পারুল বেগমসহ অন্যরা বক্তব্য দেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, ঘটনার পরও প্রধান আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় এলাকায় উদ্বেগ বিরাজ করছে। তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে অন্যথায় থানা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচির ঘোষণা দেন। উল্লেখ্য, গত ১১ জুলাই গভীর রাতে নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় শাহ জালাল মিয়াকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় গোলাম হোসেনকে প্রধান আসামি করে ফুলছড়ি থানায় হত্যামামলা দায়ের করা হয়েছে। ফুলছড়ি থানার ওসি দুরুল হোদা বলেন, অভিযুক্তকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে। ফুলছড়ি (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা।

গ্যাসের দাবিতে তিতাস অফিস ঘেরাও

ঢাকার সাভারে আবাসিক গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের দাবিতে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি পিএলসির সাভার আঞ্চলিক কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

গতকাল রোববার দুপুরে পৌর এলাকার ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন এলাকার নারী-পুরুষ এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ২০১৭ সাল থেকে অনিয়মিত গ্যাস পেলেও গত দুই মাস ধরে প্রায় সম্পূর্ণভাবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে রান্নাবান্নায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা। বাধ্য হয়ে হোটেলের খাবার কিনে খেতে হচ্ছে কিংবা কাঠের চুলা ব্যবহার করতে হচ্ছে। তবে নিয়মিত গ্যাস বিল পরিশোধ করেও কাক্সিক্ষত সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তারা। বিক্ষোভকারীরা আরো অভিযোগ করেন, অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় বৈধ গ্রাহকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পরে তারা তিতাস গ্যাসের গাজীপুর অঞ্চলের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর প্রকৌশলী এম ডি সাখাওয়াত হোসেনের কাছে স্মারকলিপি দেন এবং তিন দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধানের দাবি জানান। প্রকৌশলী এম ডি সাখাওয়াত হোসেন বিক্ষোভের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে। অবৈধ গ্যাস সংযোগে কোনো কর্মকর্তা জড়িত থাকলে অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি। সাভার (ঢাকা) সংবাদদাতা।

ভেজাল ওষুধ কারখানায় অভিযান

নাটোর সদর উপজেলার পার আটঘরিয়া এলাকার তথাকথিত ‘ওষুধি গ্রাম’ থেকে ভেজাল ও অনুমোদনহীন ওষুধ এবং ওষুধ তৈরির সরঞ্জামসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গতকাল রোববার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার শরীফুল হক। তিনি জানান, পার আটঘরিয়া গ্রামের খোকন মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৪০ ধরনের যৌন উত্তেজকসহ বিভিন্ন রোগের অনুমোদনহীন ওষুধ, ক্যাপসুল তৈরির মেশিন, ডাইস, কম্প্রেসার, প্যাকেজিং মেশিন, প্রায় ২৫০ কেজি ক্যাপসুল ও কাঁচামাল, বিপুল পরিমাণ ক্রিম, ওষুধ এবং প্যাকেজিং সামগ্রী জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় খোকন মিয়া (২৮), শরিফুল ইসলাম (২৮) ও তারিকুল ইসলামকে (২৪) গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, তারা ‘এসকে নিউট্রিশন’ ও ‘অর্গানিক বায়ো কেয়ার সলিউশন’ নামে দু’টি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে সারা দেশে এসব ওষুধ বিক্রি করতেন। এ ব্যবসা থেকে বছরে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা আয় হতো বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। পুলিশ সুপার জানান, জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক মূল্য ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। নাটোর প্রতিনিধি।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে জাসাসের চারা বিতরণ

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও দেশব্যাপী সবুজায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে পাবনার চাটমোহরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ করেছে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)। গত শনিবার বিকেলে উপজেলার গুনাইগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গুনাইগাছা কিশোর-কিশোরী ক্লাব ও গুনাইগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা তুলে দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে চারা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন গুনাইগাছা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা গোলাম মওলা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- চাটমোহর উপজেলা জাসাসের সদস্যসচিব সিদ্দিকুর রহমান মিলন, যুগ্ম আহ্বায়ক কায়সার আহম্মেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক আবু মাসুম এবং জাসাস নেতা রফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা। আয়োজকরা জানান, পরিবেশ সংরক্ষণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষরোপণের আগ্রহ সৃষ্টি এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা।

মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি চান এরশাদ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের সাহেবনগর গ্রামের বাসিন্দা এরশাদুর রহমান (৭৬) শেষ বয়সে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি এবং মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের দাবি জানিয়েছেন। গতকাল রোববার তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে তার মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পুনঃযাচাইয়ের অনুরোধ জানান। আবেদনে এরশাদুর রহমান দাবি করেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতের ত্রিপুরার মুহুরি ট্রানজিট ক্যাম্প ও চোত্তাখোলা ক্যাম্পে খাদ্যভাণ্ডারের স্টোরকিপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ বিষয়ে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা লিখিত সাক্ষ্যও দিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি জানান, স্বীকৃতি না পেয়ে ২০১৫ সালে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন। আদালতের নির্দেশে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি। এ ছাড়া স্বীকৃতির জন্য তিন লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন বলেন, লিখিত আবেদন পাওয়া গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের ব্যবস্থা নেয়া হবে। চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) সংবাদদাতা।