মতলব উত্তর (চাঁদপুর) থেকে সংবাদদাতা
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটা রোগীদের জন্য অ্যান্টিভেনম কেনার উদ্দেশ্যে উপজেলা পরিষদ থেকে বরাদ্দ দেয়া তিন লাখ টাকা ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বরাদ্দের অর্থ হাসপাতালের হিসাবে জমা হয়নি বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট ক্যাশিয়ার। আবার হাসপাতালের হিসাবরক্ষকের দাবি, ওই অর্থের পরিবর্তে হাসপাতালের রানিং ক্যাশ থেকে ৩০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম কেনা হয়েছিল। ফলে সরকারি বরাদ্দের অর্থের প্রকৃত ব্যবহার নিয়ে তৈরি হয়েছে অস্পষ্টতা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, নদী ও চরাঞ্চলঘেরা মতলব উত্তরে বর্ষায় সাপের উপদ্রব বাড়ে। সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসায় পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম না থাকার বিষয়টি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। বিষয়টি তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনির নজরে এলে অ্যান্টিভেনম কেনার জন্য উপজেলা পরিষদ থেকে তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। দ্রুত অর্থ ছাড়ের জন্য তৎকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মাহবুবুর রহমানের নামে চেক দেয়া হয়। নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর চেকটি গ্রহণ করা হয়। চেক নম্বর ৮৬২৫৮৩৯১২১০২৫।
তবে বরাদ্দের অর্থের ব্যবহার নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। হাসপাতালের ক্যাশিয়ার মনজুরুল ইসলাম বলেন, উপজেলা পরিষদের বরাদ্দের তিন লাখ টাকা দিয়ে কোনো অ্যান্টিভেনম কেনা হয়নি। এমনকি ওই অর্থ হাসপাতালের ব্যাংক হিসাবেও জমা হয়নি।
অন্য দিকে হাসপাতালের হিসাবরক্ষকের দাবি, তৎকালীন স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নির্দেশে হাসপাতালের রানিং ক্যাশ থেকে অর্থ নিয়ে ৩০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম কেনা হয়েছিল। এ-সংক্রান্ত হিসাব অফিসিয়াল রেকর্ডে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। অ্যান্টিভেনম কেনার পর ইউএনওকে হাসপাতালে নিয়ে ফটোসেশন করা হয়েছিল বলেও জানা গেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: রাজন কুমার দাস বলেন, বরাদ্দের অর্থ ও অ্যান্টিভেনম কেনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করলে প্রকৃত তথ্য জানা যাবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, অ্যান্টিভেনম কেনার জন্য বরাদ্দ দেয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলেও বিষয়টির সুরাহা হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।



