ক্রীড়া ডেস্ক
ইউরো কাপের মঞ্চে সুইডেন হারিয়েছিল ফ্রান্সকে। সেই একটা ইতিহাস কিছুটা উজ্জীবিত করতেই পারত গ্রাহাম পটারের শীর্ষদের। রাউন্ড অফ ৩২-এর ম্যাচে যেভাবে পরপর দুটো অঘটন হয়েছে, সে দিকেও নজর ছিল সবার। বিশ্বকাপ থেকে ইতোমধ্যে ছিটকে গেছে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানি ও শিরোপার অন্যতম দাবিদার নেদারল্যান্ডস। নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সিতে শেষ হওয়া ম্যাচে গতকাল মনে হয়েছিল যে একটা বেগ দিতেই পারে সুইডেন। কিন্তু তা আর হলো না! বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে সুইডিশদের বিপক্ষে ম্যাচে ফেবারিট হিসেবেই মাঠে নেমেছিল ফ্রান্স। ফলাফলটাও যে এমনই হবে, তাও আগেই ছিল অনুমেয়। কিলিয়ান এমবাপ্পে, ব্রাডলি বার্কোলাদের গতি ও স্কিলের সামনে রীতিমতো নাকানি-চোবানি খেল সুইডেন। যার ফল মিলল খেলার শেষেই। ফরাসি ঝড়ে উড়ে গেলেন আলেকজান্ডার ইসাক-ভিক্টর গায়কেরেসরা। দিদিয়ের দেশমের দলের হয়ে জোড়া গোল করলেন এমবাপ্পে, একটি গোল বার্কোলার। সুইডেনকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিল ২০১৮ আসরের চ্যাম্পিয়নরা।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফেবারিট হিসেবেই মাঠে নেমেছিল ফ্রান্স। শুরুতেই একটি সুযোগ পেয়েছিল সুইডেন। সুইডিশ তারকা ইসাকের দুর্বল শট সহজেই আয়ত্তে নিলেন গোলরক্ষক। এর পর থেকে যা হলো, তার কোনো জবাব খুঁজে পেল না দলটি। খেলার প্রথমার্ধে পুরোটাই ক্রমাগত আক্রমণের ঝড় তুলল ফরাসিরা; যাতে দিশেহারা হয়ে যাওয়ার অবস্থা আয়ারি, বার্জভলদের। ১৫ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে লুকা জিনিয়ার শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক। দুই মিনিট পর দূর থেকেই গোলরক্ষক বরাবর শট করেন এমবাপ্পের। ১৯ মিনিটে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে উড়িয়ে মারেন বার্কোলা। ৩২ মিনিটে গোল পেতে পারতেন এমবাপ্পে। ছয় গজ বক্সের ভেতর থেকে জুল কুন্দের চমৎকার কাটব্যাক পেয়ে শট নিলেও পোস্টে লেগে প্রতিহত। ফ্রান্সের হয়ে গোলমুখ খুললেন এমবাপ্পেই। ম্যাচের ৪৫ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দিলেন এমবাপ্পে। ৪৫ মিনিটে ওলিসে ও দেম্বেলে হয়ে বল পান ফরাসি ফরোয়ার্ড। বক্সে প্রতিপক্ষের একজনের বাধা এড়িয়ে বাঁকানো শটে ঠিকানা খুঁজে নেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। গোল করেই ছুটে গিয়ে ডাগআউটে কোচ দিদিয়ের দেশমকে জড়িয়ে ধরেন এমবাপ্পে। মায়ের শেষকৃত্যে যোগ দিতে দেশে ফেরায় গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ডাগআউটে ছিলেন না ২০১৮ বিশ্বকাপ জয়ী এই কোচ।
আর এই গোলের সুবাদে বিশ্বকাপের মঞ্চে নকআউটে সবচেয়ে বেশি গোল করাই শুধু নয়, টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বাধিক গোলের নিরিখে টপকে গেলেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে। প্রথমার্ধে বাঁশি বাজার আগেই সমতা ফেরার সুবর্ণ সুযোগ মিস করেন সুইডিশ স্ট্রাইকার।
দ্বিতীয়ার্ধেও ফ্রান্সের আক্রমণাত্মক ফুটবলশৈলী ছিল চোখে পড়ার মতো। ৫৩ মিনিটে ব্যবধানও দ্বিগুণ করে ২০২২ আসরের রানার্সআপরা। ওলিসের চমৎকার পাস বক্সে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জোরাল শটে গোলটি করেন বার্কোলা। ২ গোল হজম করার পরও খেলায় ফেরার চেষ্টা করেছিল সুইডেন। কোচ গ্রাহাম ডিফেন্ডার স্ট্রাউডকে বসিয়ে মাঠে নামার স্ট্রাইকার আলিকে। যদি কিছু পরিবর্তন হয় খেলায়, সেই আশায়। কিন্তু কোথায় কি! ৬১ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ওলিসের শট ঝাঁপিয়ে গোলরক্ষক জ্যাকব উইডেল জেটারস্ট্রম ব্যর্থ করে না দিলে আরো পিছিয়ে পড়ত সুইডিশরা। ৭১ মিনিটে বক্সে ঢুকেও গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে পারেননি ওলিসে। ৭৪ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলের দেখা পান এমবাপ্পে। ওলিসের পাস বক্সে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জোরাল শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। নির্ধারিত সময়ের পাঁচ মিনিট বাকি থাকতে ওলিস ও এমবাপ্পেকে তুলে নেন কোচ।
সুইডেনের আক্রমণভাগে প্রিমিয়ার লিগের তিন তারকা গায়কেরেস, ইসাক ও অ্যান্থনি এলাঙ্গা থাকলেও তারা সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়। শেষ দিকে দু’টি শট লক্ষ্যে রাখতে পারলেও গোলরক্ষক মাইক ম্যাগনানকে পরাস্ত করতে পারেনি সুইডেন। আগামী শনিবার ফিলাডেলফিয়াতে দক্ষিণ আমেরিকান দল প্যারাগুয়ের বিপক্ষে শেষ ১৬-র ম্যাচে মুখোমুখি হবে লেস ব্লুজরা। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ জয়ের অভিযানেও প্যারাগুয়েকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল ফ্রান্স।



