মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে পাবনা ও সিরাজগঞ্জের ঘি ও ছানা রফতানি ব্যাহত

Printed Edition

শফিউল আযম বেড়া (পাবনা)

পাবনা ও সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের খাঁটি দুধে তৈরি ছানা ও ঘি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের ১৯টি দেশে রফতানি হচ্ছে। এ থেকে প্রতি বছর আয় হয় প্রায় ৫০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে ওই অঞ্চলের ১০টি দেশে ঘি ও ছানা পাঠানো ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

দুগ্ধভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত পাবনা ও সিরাজগঞ্জে প্রতিদিন সাড়ে ১৫ থেকে ১৬ লাখ লিটার দুধ উৎপাদিত হয়। প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, দুই জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৩৪ হাজার দুগ্ধ খামার রয়েছে। এসব দুধের বড় অংশ বাঘাবাড়ী মিল্ক ভিটা, প্রাণ, আকিজ ও ব্র্যাকসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কেনে। বাকি দুধ থেকে স্থানীয় খামারি ও ব্যবসায়ীরা ছানা ও ঘি তৈরি করেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, দুই জেলায় প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার ১০০ মণ দুধ থেকে ৩৭৫ মণ ছানা এবং প্রায় তিন হাজার ৩০০ লিটার ঘি তৈরি হয়। এর একটি অংশ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের প্রধান শহরগুলোয় পাঠানো হয়। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম ও সিলেটের রফতানিকারকেরা বিশেষ প্রক্রিয়ায় কার্গো বিমানে এসব ছানা ও ঘি ইংল্যান্ড, আমেরিকা, কানাডাসহ মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, কাতার, ওমান, বাহরাইন, কুয়েত ও দুবাইয়ে পাঠান।

তবে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজমান অস্থিরতা ও যুদ্ধের কারণে নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে সময়মতো মালামাল পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে রফতানি প্রক্রিয়া মারাত্মক ধীরগতির মুখে পড়েছে।

ডেমরা গ্রামের ছানা ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন বলেন, বিদেশে বাঘাবাড়ীর ঘি ও খাঁটি ছানার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের ১০টি দেশে রফতানি আগের মতো চালানো যাচ্ছে না। পরিবহন জটিলতায় অনেক অর্ডার আটকে গেছে।

রফতানি সঙ্কটের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। কাঁচামালের দাম বাড়লেও সে অনুযায়ী ছানার দাম পাওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়া একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী নিম্নমানের উপাদান দিয়ে ভেজাল ঘি তৈরি করে বাঘাবাড়ীর নামে বিক্রি করছে। এতে আসল পণ্যের সুনাম ও বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিএসটিআই বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।