আলমগীর কবির
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনাল ম্যাচটি ফুটবলপ্রেমীদের জন্য যতটা উত্তেজনার ছিল, সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্যও ছিল ঠিক ততটাই জমকালো। কারণ, ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রমবারের মতো যুক্ত করা হয়েছিল আমেরিকার বিখ্যাত সুপার বোল স্টাইলের হাফটাইম শো।
আর সেই ঐতিহাসিক মঞ্চে বিশ্বখ্যাত কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস এমন এক পারফরম্যান্স উপহার দিলো, যা দেখে পুরো নেট দুনিয়ায় এখন তোলপাড় চলছে। বিটিএসভক্তরা তো বটেই, সাধারণ দর্শকরাও এই পারফরমেন্সকে বলছেন, ‘ইতিহাসের সেরা হাফটাইম শো!’
ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ হতেই পুরো স্টেডিয়ামের আলো বদলে যায়। শুরু হয় ১১ মিনিটের সেই রুদ্ধশ্বাস মিউজিক্যাল ধামাকা, যেখানে খেলা আর গান মিলেমিশে এক হয়ে গিয়েছিল।
বিটিএস তাদের বিশ্বকাঁপানো সুপারহিট গান ‘ডায়নামাইট’ দিয়ে পুরো স্টেডিয়াম নাচিয়ে তোলে। তাদের নাচ আর গায়কি গ্যালারিতে থাকা লাখো দর্শক এবং টিভির সামনে থাকা কোটি কোটি মানুষকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে।
বিটিএস একা নয়, এই ঐতিহাসিক হাফটাইম শোতে পারফর্ম করতে এসেছিলেন বিশ্বের বাঘা বাঘা সব পপস্টার। পপসম্রাজ্ঞী ম্যাডোনা, লাতিন ড্যান্স কুইন শাকিরা, পপ আইকন জাস্টিন বিবার এবং আফ্রোবিট তারকা বার্না বয়ের মতো তারকারা একই মঞ্চে পারফর্ম করেন।
বিখ্যাত ব্যান্ড ‘কোল্ডপ্লে’-র ক্রিস মার্টিনের তত্ত্বাবধানে এই পুরো আয়োজনে আরও অংশ নিয়েছিল ‘দ্য মাপেটস’ এবং বিখ্যাত ‘নিউ ইয়র্ক ফিলহারমোনিক’ অর্কেস্ট্রা। সব মিলিয়ে মেটলাইফ স্টেডিয়াম যেন এক রাতের জন্য তারকার মেলায় পরিণত হয়েছিল।
বিটিএসের পারফরম্যান্স শেষ হতে না হতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো সুনামি বয়ে গেছে। বিশ্বজুড়ে থাকা বিটিএসভক্তরা, যাদের ‘আর্মি’ বলা হয়, তারা সামাজিকমাধ্যম এক্স ও ফেসবুকে প্রশংসার বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন।
একজন ভক্ত আবেগ ধরে রাখতে না পেরে লিখেছেন, ‘এই পুরো পৃথিবীটার আসল মালিক তো তারাই!’ আরেকজন লিখেছেন, ‘সবকিছু এত নিখুঁত ছিল! তারা আসলে সুপারস্টার হওয়ার জন্যই পৃথিবীতে জন্মেছেন।’ আবার একজন রসিকতা করে লিখেছেন, ‘স্পেন বা আর্জেন্টিনা নয়, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ আসলে বিটিএসই জিতে নিয়েছে!’
ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে অনেক উদ্বোধনী বা সমাপনী অনুষ্ঠান হলেও, ম্যাচের মাঝখানের এই নতুন ‘হাফটাইম শো’ এবং তাতে বিটিএসের এই রাজকীয় পারফরমেন্স বিনোদন ও ক্রীড়া জগতের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।



