২৪ বছরেও এমপিওভুক্ত হয়নি শ্যামনগরের মহিলা মাদরাসা

Printed Edition
শ্যামনগর আনোয়ারা খাতুন মহিলা দাখিল মাদরাসা : নয়া দিগন্ত
শ্যামনগর আনোয়ারা খাতুন মহিলা দাখিল মাদরাসা : নয়া দিগন্ত

এস এম মোস্তফা কামাল শ্যামনগর (সাতীরা)

সাতীরার শ্যামনগর উপজেলা সদরের শ্যামনগর আনোয়ারা খাতুন মহিলা দাখিল মাদরাসা প্রতিষ্ঠার ২৪ বছর পার হলেও এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। ফলে প্রতিষ্ঠানটির ১৬ জন শিক-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে বেতনভাতা ছাড়াই দায়িত্ব পালন করছেন। এতে তাদের অনেকেই আর্থিক সঙ্কটে পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত মাদরাসাটি বর্তমানে শ্যামনগর পৌরসভার একমাত্র মহিলা দাখিল মাদ্রাসা। এখানে ইবতেদায়ি স্তর থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত ছেলে ও মেয়ে শিার্থী এবং ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত শুধু ছাত্রীদের পাঠদান করা হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ৩৭৮ জন শিার্থী রয়েছে।

মাদরাসা কর্তৃপরে দাবি, এ প্রতিষ্ঠানের শিার্থীরা নিয়মিত ভালো ফলাফল করছে। ইবতেদায়ি, জেডিসি (পূর্ববর্তী) ও দাখিল পরীায় সন্তোষজনক ফল অর্জনের ধারাবাহিকতা রয়েছে। নিজস্ব ৮৮ শতক জমির ওপর নির্মিত দ্বিতল ভবনে শিা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১০ ও ২০২২ সালে এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করা হলেও তা অনুমোদন পায়নি। ফলে শিক-কর্মচারীদের বেতনভাতা না থাকায় তাদের অনেকেই ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। কয়েকজন শিক দীর্ঘদিন বিনা বেতনে চাকরি করতে করতে অবসরের কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিা কর্মকর্তা নূর মুহাম্মদ তেজারত বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে মাদরাসাটি পরিচালিত হচ্ছে। তবে এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক-কর্মচারীরা আর্থিক সঙ্কটে রয়েছেন। মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা আবদুল মজিদ বলেন, দুই দশকের বেশি সময় ধরে শিক-কর্মচারীরা বেতনভাতা ছাড়াই শিা কার্যক্রম সচল রেখেছেন। এটি তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর।

মাদরাসার সুপার মাওলানা মো: রবিউল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠানটি এখনো এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক-কর্মচারীরা চরম আর্থিক দুর্ভোগে রয়েছেন। অতীতে রাজনৈতিক কারণে প্রতিষ্ঠানটি বঞ্চিত ছিল। বর্তমান সরকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যদি এটিকে এমপিওভুক্ত করে দিত, তাহলে আমাদের মতো অনেক শিক-কর্মচারীদের দুর্ভোগ কিছুটা কমত শিক্ষার মান আরো শক্তিশালী হতো।